ব্যয় সীমার মধ্যেই নির্বাচন করার ঘোষণা তাসনিম জারার

 

ঢাকা–৯ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন তাসনিম জারা, যিনি প্রচলিত নির্বাচনী ব্যয়ের ধারা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী একজন প্রার্থী নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা খরচ করতে পারেন। তবে বহু বছর ধরেই অভিযোগ রয়েছে—বাস্তবে প্রার্থীদের ব্যয় কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছে যায়, আর নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হিসাব থাকে মাত্র ২৫ লাখ টাকার ভিতর।

তাসনিম জারা জানিয়েছেন, তিনি এই ‘অসততা ও মিথ্যার রাজনীতি’ করতে চান না। বরং তিনি অঙ্গীকার করেছেন আইনে অনুমোদিত ২৫ লাখ টাকার বাইরে এক টাকাও খরচ করবেন না। তার ভাষায়, নির্বাচনী সংস্কৃতিতে একটি দৃষ্টান্ত গড়াই তার লক্ষ্য।

তিনি জানিয়েছেন, অনেকেই তাকে বলেছেন এত অল্প বাজেটে নির্বাচনে লড়া সম্ভব নয়। কিন্তু তিনি দৃঢ়ভাবে মত দিয়েছেন—সততা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এমন নির্বাচন করাই সম্ভব। এজন্য তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচনের পুরো সময় ধরে নিয়মিত জানাবেন কত টাকা পেয়েছেন এবং কত টাকা ব্যয় করেছেন।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্থ ও পেশিশক্তির প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা চালাতে হবে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এজন্য গড়ে তোলা হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী টিম। শুধু ঢাকা–৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা, মান্ডা) নয়, দেশের যেকোনো এলাকা বা প্রবাস থেকেও অংশ নেওয়া যাবে এই ক্যাম্পেইনে।

সাহায্যের ক্ষেত্রগুলোও যে কেউ তার মতো করে বেছে নিতে পারেন—

— কেউ গ্রাফিক ডিজাইন করতে পারেন — কেউ ভিডিও শুট বা এডিট করতে পারেন, কেউ উঠান বৈঠকের আয়োজন করতে পারেন, — কেউ ফান্ড সংগ্রহে সাহায্য করতে পারেন — কেউ আমাদের সাথে বাসায় বাসায় গিয়ে মানুষের কাছে আমাদের মেসেজ পৌঁছে দিতে পারেন — আরও অনেক ভূমিকা আছে। আবার আপনি নিজেও জানাতে পারেন যে কিভাবে সাহায্য করতে চান।

এই উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে একটি সংক্ষিপ্ত অনলাইন ফর্ম, যাতে মাত্র দুই মিনিটে জানানো যাবে কিভাবে কেউ অংশ নিতে চান।

তাসনিম জারা মনে করেন, জনগণের সময়, শ্রম ও অংশগ্রহণ দিয়ে নির্বাচনকে ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব। তার মতে, রাজনীতি যদি দুর্নীতি, পেশিশক্তি ও অস্বচ্ছতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসে এবং সত্যিকারের জনগণের হাতে ফিরে যায়—তবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা সীমাহীন।

এই উদ্যোগকে তিনি নাম দিয়েছেন “সততার নির্বাচন”—আর মাঠে নেমে তিনি প্রমাণ করতে চান, টাকার নির্বাচনের বদলে মানুষের নির্বাচনও সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *