পারস্য উপসাগরের কিশ দ্বীপে অনুষ্ঠিত একটি ম্যারাথনে নারীদের হিজাব ছাড়া অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ায় ইরানের বিচার বিভাগ দুই আয়োজককে গ্রেপ্তার করেছে। ৫ই নভেম্বর শুক্রবারের এই প্রতিযোগিতায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেয়, যাদের মধ্যে অনেক নারীকে ইসলামি পোশাকবিধি না মেনে দৌড়াতে দেখা যায়।
ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র মিজান অনলাইন জানায়, *“প্রতিযোগিতার দুই প্রধান আয়োজককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজন কিশ ফ্রি জোনের কর্মকর্তা এবং অপরজন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি।”*
স্থানীয় প্রসিকিউটরের বরাতে জানা যায়, *“আগে থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও এই আয়োজনে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। এটি জনসম্মুখে শালীনতার পরিপন্থী ছিল।”*
২০২২ সালে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছিল। এরপর থেকে অনেক নারীই আর হিজাব পরতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। যদিও ইরানের আইন অনুযায়ী, জনসম্মুখে নারীদের অবশ্যই মাথা ঢাকা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়।
সম্প্রতি ইরানের সংসদ বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে হিজাব আইন কার্যকর করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলে। এর জেরে প্রধান বিচারপতি কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। যদিও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার হিজাব লঙ্ঘনে কঠোর শাস্তির বিলে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, ইরানে নারীদের পোশাকবিধির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্রমশ বাড়ছে, আর সেই প্রতিবাদের মাধ্যম হয়ে উঠছে ক্রীড়াঙ্গনও।