কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দিতে জোরালো তৎপরতা শুরু করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। চলতি বছরের ০৯ সেপ্টেম্বর তারিখে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কৃষিবিদ রেহানা পারভীন যোগদানের পর থেকেই ডিলার, কৃষক ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত সভা, তদারকি ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উপজেলায় সারের কৃত্রিম সংকট রোধে ১৪টি ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে এবং সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর ২০২৫ মাসের জন্য দৌলতপুর উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ১,৩৭২ মেট্রিক টন, টিএসপি ৩২০ মেট্রিক টন, ডিএপি ৬৮০ মেট্রিক টন এবং এমওপি ৫৬৩ মেট্রিক টন। এই পরিমাণ সার দিয়ে চলতি মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ। প্রায় ৯০ হাজার কৃষক পরিবারের মাঝে সুষম বণ্টনের মাধ্যমে এসব সার সরবরাহ করা হচ্ছে।
কৃষকদের উদ্দেশে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেহানা পারভীন বলেন, “বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছাতে আন্তরিক। সারের কোনো ঘাটতি নেই। কেউ যদি ঘাটতির অজুহাত দেখায় বা বেশি দাম দাবি করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কৃষি বিভাগকে জানান।” একই সঙ্গে তিনি ফসল আবাদে সুষম সার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে সারের অপচয় কমে।
সারের কারসাজি রোধে তিনি সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
পদ্মা নদীবিধৌত উর্বর এই অঞ্চলে ধান, পাট ও তামাকের ব্যাপক চাষ হয়। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোসহ বিভিন্ন কোম্পানির সহায়তায় এখানে বাণিজ্যিকভাবে তামাক চাষ হলেও বর্তমানে ভুট্টার চাষ তামাকের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পাশাপাশি ডাল, তৈলবীজ, সবজি এবং উন্নত জাতের আম ও লিচু উৎপাদনেও দৌলতপুর দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচিত। উপজেলার একটি বড় অংশের মানুষের জীবিকা পানের বরজের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে উৎপাদিত ‘মিষ্টি পান’ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের এই কঠোর তদারকির ফলে সার নিয়ে অনিশ্চয়তা কমবে এবং সাধারণ কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।