প্রথম আলো–ডেইলি স্টারসহ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন

দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই গণমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়সহ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ও উদীচী কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় টাউন হলের প্রধান ফটকের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে সংস্কৃতি কর্মী ও শিল্পী সমাজ এবং কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকরা। শুরুতেই সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে যারা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভকে গলাটিপে ধরতে চায়, তাদের প্রতি ঘৃণা ও ধিক্কার জানানো হচ্ছে।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে পরিকল্পিতভাবে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই দিনে ছায়ানটে হামলা ও ভাঙচুর এবং পরদিন শুক্রবার রাতে উদীচী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদপত্রের অফিসে অগ্নিসংযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হামলা। তিনি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানান।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক (ফারুক) বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। ধর্মকে ব্যবহার করে মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে দেশের ইতিহাস নষ্ট করার চেষ্টা কখনো সফল হবে না। তিনি বলেন, আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে সংবাদকর্মীরা ছাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন এবং নারী সাংবাদিকদের উদ্ধারকালে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ ধরনের হামলার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরান, সাংস্কৃতিক সংগঠক তাপস বকশি, উদীচী শিল্পগোষ্ঠী কুমিল্লার সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ, চারণ সাংস্কৃতিক সংগঠক সর্দার হুমায়ুন কবির ও কুমিল্লা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহার রায়হান।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে গত ১৭ বছর ধরে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সংসদে বারবার এই দুটি পত্রিকার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এত বাধা সত্ত্বেও তারা সত্য থেকে বিচ্যুত হয়নি। বক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পর বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হবে—এমন আশা থাকলেও বাস্তবে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা আরও বেড়েছে।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায়, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি গোস্বামী, নজরুল পরিষদ কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক অশোক বড়ুয়া, বিনয় সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন (মাহবুব), সাংস্কৃতিক সংগঠক অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র, রত্না সাহা, ওয়াইডব্লিউসিএর সাধারণ সম্পাদক আইরিন মুক্তা অধিকারী, কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটনসহ সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

বক্তারা একযোগে বলেন, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সাংবাদিক সমাজ ও সংস্কৃতিকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *