বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। নরওয়ের আধুনিক গবেষণা জাহাজ আরভি ড. ফ্রিডটজফ ন্যানসেন সম্প্রতি বাংলাদেশের পুরো সমুদ্রসীমা জুড়ে এক মাসব্যাপী গবেষণা অভিযান সম্পন্ন করেছে। এই অভিযানে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৬৫টি সামুদ্রিক প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি প্রজাতি বিশ্বে সম্পূর্ণ নতুন হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নরওয়ের রাষ্ট্রায়ত্ত এই গবেষণা জাহাজটি প্রয়াত নরওয়েজীয় বিজ্ঞানী, অভিযাত্রী ও মানবতাবাদী ড. ফ্রিডটজফ ন্যানসেনের নামে নামকরণ করা। জাহাজটি জাতিসংঘের পতাকা বহন করে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা ও সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
গত ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেয় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেরিন রিসার্চ (IMR) এবং বাংলাদেশের গবেষকরা। বাংলাদেশি গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে মোট ২৬ জন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিজ্ঞানী এই গবেষণায় কাজ করেন।
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল—
- টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার জন্য তথ্য সংগ্রহ
- সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরি
গবেষণায় সংগৃহীত তথ্য বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নতুন প্রজাতি শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।
নরওয়ে সরকার জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে এই সহযোগিতাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ভবিষ্যতেও সমুদ্রসম্পদ গবেষণা ও উন্নয়নে পাশে থাকতে আগ্রহী। এই অভিযান বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।