বিদ্যা, জ্ঞান ও শিল্পের দেবী সরস্বতীর পূজাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। মাটি, খড় ও বাঁশ দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরিতে দিনরাত কাজ করছেন তারা। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, শিল্পীদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মৃৎশিল্পীরা মাটি, খড়, সুতলি ও বাঁশ ব্যবহার করে প্রতিমার মূল কাঠামো দাঁড় করাচ্ছেন। এরপর ধাপে ধাপে মাটির কাজ করে দেওয়া হচ্ছে প্রতিমার চূড়ান্ত রূপ। কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ ঠাকুরপাড়াস্থ কালীগাছতলা কালী দেবী ও শিব মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হচ্ছে ছোট-বড় নানা আকারের সরস্বতী প্রতিমা। পছন্দের প্রতিমা কিনতে ও অর্ডার দিতে প্রতিদিনই বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা।
মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ নেই। তবুও শত কষ্টের মাঝেও তারা থেমে নেই। বাপ-দাদার আদি পেশা ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এখনো নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার। পঞ্চমী তিথি শুরু হবে ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ২টা ৭ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) দিবাগত রাত ১২টা ৫৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে। এদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা হলুদ বস্ত্র পরিধান করে বিদ্যা, জ্ঞান ও শিল্পের দেবী সরস্বতীর পূজা করে থাকেন।
প্রতিমা অর্ডার দিতে আসা শিক্ষার্থী অর্পিতা সরকার বলেন, “প্রতিবছরই বিদ্যার জন্য দেবীর কাছে প্রার্থনা করি। এবারও বিদ্যা, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দেবীর পূজা করবো। তাই আগেভাগেই পছন্দের প্রতিমার অর্ডার দিতে এসেছি।”
মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা মৃৎশিল্পী রমেশ পাল জানান, আকারভেদে প্রতিটি প্রতিমা ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হবে। তিনি বলেন, “লাভ কম হলেও অন্তত মজুরির টাকা ওঠে। এই কাজের মাধ্যমেই আমরা আমাদের বাপ-দাদার পেশা ও ঐতিহ্য ধরে রেখেছি।”
প্রতিমা তৈরির কারিগর শংকর পাল বলেন, তিনি দুই যুগের বেশি সময় ধরে এই পেশায় যুক্ত। “কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই এই কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। লাভ কম হলেও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এখনো বিভিন্ন পূজায় প্রতিমা তৈরি করছি। এক পেশার আয়ে কোনোমতে সংসার চলে,”—বলেন তিনি।
সব মিলিয়ে সরস্বতী পূজাকে ঘিরে কুমিল্লায় মৃৎশিল্পীদের কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ। সীমিত লাভের মধ্যেও ঐতিহ্য আর বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলেছেন তারা।