NEIR চালু: অবৈধ মোবাইল আমদানি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে সরকার

এনইআইআর (National Equipment Identity Register) চালু করাকে কেন্দ্র করে মোবাইল ফোন বাজারে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না থাকা মোবাইল ফোন ১৬ মার্চের পর আর নেটওয়ার্ক সুবিধা পাবে না। এই সিদ্ধান্তের পরই অনেক গ্রাহক অভিযোগ করছেন, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে অজানা সংখ্যক ফোন নিবন্ধন করা হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশের মোবাইল ফোন বাজারের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেটের ওপর নির্ভরশীল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাজারে থাকা ফোনের অন্তত ৬০ শতাংশ বৈধ আমদানি প্রক্রিয়ার বাইরে এসেছে। বাস্তবে এই হার আরও বেশি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্র জানায়, এনইআইআর চালুর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অবৈধ মোবাইল আমদানি বন্ধ করা, চুরি হওয়া ফোন শনাক্ত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো। বিটিআরসি কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চোরাই পথে আসা ফোনের কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি বৈধভাবে মোবাইল ফোন সংযোজন ও উৎপাদন শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি ও বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত অনেক ফোনের আইএমইআই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। এনইআইআর চালু হলে এসব ফোন সহজে ব্লক করা যাবে এবং অপরাধের সূত্র ধরাও সহজ হবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব ফোন নেটওয়ার্কে সক্রিয় ছিল, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় এসেছে। এ কারণেই অনেক গ্রাহকের এনআইডির সঙ্গে অচেনা সংখ্যক ফোন যুক্ত থাকার তথ্য সামনে আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে বিটিআরসি।

এদিকে এনইআইআর কার্যকরের বিরোধিতা করে মোবাইল ফোনের কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকানদার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে সরকারের অবস্থান, অবৈধ আমদানি ও অনিয়ম বন্ধ না হলে ভোক্তা, শিল্প এবং রাষ্ট্র—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

টেলিযোগাযোগ ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনইআইআর কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজস্ব আদায় বাড়বে, দেশীয় শিল্প সুরক্ষা পাবে এবং অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের এনআইডি অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, এনইআইআর কার্যক্রম চালু থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *