বিজয় মজুমদার
বাংলা ছড়ার জগৎ আজ আরও নিঃশব্দ। ছন্দ, রস আর সহজ ভাষার মেলবন্ধনে যিনি পাঠকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন, সেই ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া (২রা জানুয়ারী) আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর চলে যাওয়া মানে শুধু একজন কবির বিদায় নয়—এটি এক ধরনের সৃজনশীল শ্বাসের থেমে যাওয়া।
সুকুমার বড়ুয়ার ছড়ায় ছিল সাবলীলতা। শব্দে শব্দে তিনি গল্প বলতেন, কখনো হাসি, কখনো ভাবনার খোরাক জোগাতেন। শিশুদের জন্য লেখা তাঁর ছড়ায় যেমন ছিল কৌতুক ও কল্পনা, তেমনি বড়দের পাঠেও ধরা দিত সূক্ষ্ম জীবনবোধ। পরিচয় বা পরিচিতির গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর ছড়া নিজের শক্তিতেই পাঠকের কাছে পৌঁছেছে—এটাই তাঁর বড় অর্জন।
তিনি ছিলেন ছন্দের মানুষ। ছন্দকে তিনি কখনো ভারী করেননি, আবার হালকাও হতে দেননি। সহজ ভাষায় গভীর কথা বলার যে দক্ষতা, তা আজকের দিনে বিরল। তাই তাঁর চলে যাওয়া বাংলা ছড়ার ভাণ্ডারে এক শূন্যতা তৈরি করল—যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
তবু শিল্পীর মৃত্যু মানেই সব শেষ নয়। তাঁর লেখা ছড়া পড়া হবে, বলা হবে, নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে ঘুরে বেড়াবে। সেখানেই তিনি বেঁচে থাকবেন—শব্দে, ছন্দে, স্মৃতিতে।
এই বিদায়ের মুহূর্তে, তার জন্য লেখা ছড়ার কয়েকটি পংক্তিতে যেন অনুভূতিটা ধরা পড়ে——
লিখেছেন ছড়া তাতে ছিল ছন্দ,
আজ থেকে তাঁর ছড়া লেখা বন্ধ।
থেমে গেছে ছন্দের হৃদয়ের স্পন্দন,
থেকে গেছে শব্দ ও কলমের বন্ধন।
পরিচয় যাই হোক সবকিছু মাপিয়ে,
ছড়াকার পরিচয় গিয়েছিলো ছাপিয়ে।
মজে রবে বাংলা কিছু ছড়া পড়াতে,
সুকুমার বড়ুয়ার ছন্দ ও ছড়াতে।
বাংলা ছড়ার পাঠকরা আপনভাবেই তাঁকে মনে রাখবেন—নিঃশব্দে, গভীর শ্রদ্ধায়।