বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনের উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কলারশিপ সম্পর্কে জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সম্প্রতি আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওফেং। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ড. ইয়াং হুই। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাসিমউদ্দিন খান এবং প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী।
সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাসিমউদ্দিন খান বলেন, শিক্ষা বিনিময় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করে। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হবে।
চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওফেং শিক্ষার্থীদের চীনের সরকারি স্কলারশিপে আবেদন করতে উৎসাহ দেন। তিনি বলেন, চীনে পড়াশোনা শিক্ষাগত জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্যও বড় সুযোগ তৈরি করে।
কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ড. ইয়াং হুই চীনের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ‘ডাবল ফার্স্ট-ক্লাস’ উদ্যোগ, ডিজিটাল শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিকীকরণের মাধ্যমে শিক্ষার মান দ্রুত বাড়ছে, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করছে।
সেমিনারের সমাপনী বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহযোগিতা আরও জোরদার করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শিক্ষার্থীদের এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বেল্ট অ্যান্ড রোড চাইনিজ সেন্টারের পরিচালক ড. মারুফ মোল্লা চীনের সরকারি স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া, বিষয়ভিত্তিক সুযোগ এবং অর্থায়নের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এছাড়া শিক্ষার্থী নিলু আক্তার ও আকিব ইরফান চীনে পড়াশোনা ও সেখানকার জীবনযাপনের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
সেমিনারটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বাস্তব দিকনির্দেশনা দেয় বলে অংশগ্রহণকারীরা জানান।