বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আরও কার্যকরভাবে আকর্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) “FDI & Investment Promotion Competencies” শীর্ষক একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে। কর্মশালায় বিডা ছাড়াও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ), মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (মিডা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কর্মশালায় বিভিন্ন দেশের বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাবের ওপর কেস স্টাডি উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমস্যা, চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপনের কৌশল ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন বিডার হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট নাহিয়ান রহমান রোচি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে তথ্যভিত্তিক উপস্থাপন, দ্রুত সাড়া এবং সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
লার্নিং সেশনে নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন লাইটক্যাসল পার্টনার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিজন ইসলাম এবং ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শাহীন। তাঁরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি আস্থার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ কোনো এককালীন উদ্যোগ নয়; এটি একটি ধারাবাহিক ও কৌশলগত প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বিত ও ফলপ্রসূ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশকে দ্রুত, স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা সময়ের দাবি।
তিনি আরও জানান, বিডার কর্মকর্তাদের জন্য নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহায়তায় আগামী ১৫ জানুয়ারির পর একটি চীনা ভাষা কোর্স চালু করা হবে। এর মাধ্যমে চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে অন্যান্য বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার (আইপিএ) কর্মকর্তাদেরও এই কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মশালাটি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।