২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ড ও কানাডা নাগরিকতা সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (CEF) চালুর সময় একটি মূল বিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন—সবল নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব। সেই লক্ষ্য এখন আরও দৃঢ় হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনে।
গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকতা সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের সহযোগী হিসেবে যুক্ত হওয়ায় এই কর্মসূচির মান ও গুরুত্ব বিশ্বমানেই স্বীকৃতি পেল। বাংলাদেশে নাগরিক অংশগ্রহণ, গণশুনানি এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন একসঙ্গে কাজ করছে।
সুইস রাষ্ট্রদূত রেটো রেনগ্লি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, CEF চালুর পর থেকে ‘নাগরিকতা’ কর্মসূচি বিভিন্ন এনজিও ও কমিউনিটি সংগঠনের কাছে পৌঁছেছে এবং সরকারের সাথে নাগরিকের কথোপকথন ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, “এই কর্মসূচি স্থানীয় বাস্তবতা বোঝে এমন প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বারা বাস্তবায়িত হচ্ছে—যারা জনগণের কাছাকাছি এবং তাদের জীবনযাত্রার সমস্যাগুলো সম্পর্কে গভীরভাবে দক্ষ।”
CEF–এর কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নাগরিকদের গ্রহণযোগ্যতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা, যাতে তারা নিজ এলাকার উন্নয়ন, স্থানীয় সমস্যা ও সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। এই ফান্ড স্থানীয় সংগঠনগুলোকে ক্ষমতায়ন করে, যাতে তারা জনগণের সাথে সরাসরি কাজ করতে পারে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় জনগণের কণ্ঠকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
সুইস রাষ্ট্রদূত আরও অঙ্গীকার করেন যে সুইজারল্যান্ড ও সমমনা সহযোগীরা বাংলাদেশে নাগরিক–নির্ভর উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার পথে ইইউ–সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। এই উদ্যোগের ফলে জনগণের জীবনমান, সরকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পেলে দেশের নাগরিক সংগঠনগুলো আরও বেশি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় হবে।