দেশের ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয় যাচাইকে স্বচ্ছ, নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত করতে দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ‘ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ চালু হয়েছে। আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় হয়রানি ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইডি ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ ফ্রি রাখা হয়েছে। আবেদন ফি, নবায়ন ফি বা প্রসেসিং ফিসহ কোনো আর্থিক লেনদেন লাগবে না। একই সঙ্গে ফি–নির্ভর হয়রানির অভিযোগ সম্পর্কিত আগের চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে।
ডিওআইসিটি’র ২৯ জন প্রকৌশলী ভেরিফিকেশনের রিসোর্স পুল হিসেবে থাকবে। পাশাপাশি কারিগরি সহায়তার জন্য আরও চারজন সাপোর্ট এক্সপার্ট যুক্ত থাকবেন। খুব শিগগিরই এপিআইভিত্তিক ভেরিফিকেশন যুক্ত হবে বলে জানান বিশেষ সহকারী। দুই স্তরের এই এপিআই ভেরিফিকেশন নিয়ে ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটির সঙ্গে সমঝোতাও হয়েছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, সাইটটির নিরাপত্তা পরীক্ষার (VAPT) কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আজ থেকেই সাইন আপ ও আইডির জন্য আবেদন করা যাচ্ছে। ফ্রিল্যান্সারদের অভিজ্ঞতা উন্নয়নে কমিউনিটি লিডার ও বাংলাদেশ কল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে কাজ করবে। ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে আইসিটি বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি ফরমাল চিঠিও পাঠানো হবে—যাতে ভবিষ্যতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যানুয়াল কার্ডের বদলে এই ডিজিটাল আইডি গ্রহণ করতে পারে।
নতুন আইডির মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং সেবা, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডেটাবেজ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতা ও কাজের ধরন সংরক্ষিত থাকবে। নীতিনির্ধারণে এসব তথ্য সহায়ক হবে বলে জানানো হয়।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে পরিচয় যাচাই সহজ হবে, ব্যাংকিং ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে।
আগে ফি দিয়ে প্রতারিত হওয়া ফ্রিল্যান্সারদের বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবু সাঈদ বলেন, অভিযোগ পেলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত একজন ফ্রিল্যান্সারের আইডি আবেদন অনুমোদন করা হয়। সভায় আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা, আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবু সাঈদ, ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটির প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।