বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আজকের দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকল। ঢাকাতে আইইউসিএন বাংলাদেশ এবং বন অধিদপ্তর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জাতীয় রেড লিস্ট হালনাগাদ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পুরো উদ্যোগটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হবে।
জাতীয় রেড লিস্ট একটি বৈজ্ঞানিক ও নীতিমূলক দলিল, যেখানে দেশের উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইইউসিএন রেড লিস্ট মানদণ্ড ব্যবহার করে কোন প্রজাতি দেশে বিলুপ্ত, সংকটাপন্ন, বিপন্ন, ঝুঁকিপূর্ণ বা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে রয়েছে—তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
এই তালিকা সরকার, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর জন্য একটি প্রমাণভিত্তিক দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। এর ওপর ভিত্তি করে সংরক্ষণ নীতি, আইন বাস্তবায়ন, সংরক্ষিত এলাকা ব্যবস্থাপনা এবং প্রজাতিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন চুক্তির ফলে রেড লিস্ট প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও নিয়মিত, প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই হবে। দেশীয় বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের অংশগ্রহণে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী হবে।
জাতীয় রেড লিস্ট দেশকে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বিশেষত SDG 14 (সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদ) এবং SDG 15 (স্থলভাগের জীববৈচিত্র্য) অর্জনে সহায়তা করে। পাশাপাশি পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA), উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
এ উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য সনদ (CBD), কুনমিং–মন্ট্রিয়াল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক, CITESসহ আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও বহু পক্ষের সহযোগিতা জোরদার করার সুযোগ তৈরি করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি স্থাপন করবে।