রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদকসহ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি চাঁন সওদাগরকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার (১০ই জানুয়ারী) গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে সহযোগীদেরসহ আটক করা হয়। পরে তাঁদের রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও সেনা সূত্র জানায়, চাঁন সওদাগর একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক, অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার কয়েকটিতে চার্জশিটও দাখিল হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী মহানগর ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
চাঁন সওদাগরের বাড়ি রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার নওদাবিল গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. আবু রউফ মিস্ত্রি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি অনুযায়ী, রাজপাড়া, বোয়ালিয়া, শাহ মখদুম ও মতিহার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলো রয়েছে। অভিযোগের মধ্যে ডাকাতির প্রস্তুতি, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা, পুলিশে হামলা, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ গুরুতর ধারা রয়েছে।
আরএমপি সূত্র জানায়, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারা (হত্যাচেষ্টা), ৩৯৯/৪০২ ধারা (ডাকাতির প্রস্তুতি), অস্ত্র আইন ১৮৭৮, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ১৯০৮, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯–এর অভিযোগ রয়েছে। একাধিক মামলায় তিনি তদন্তে অভিযুক্ত ও চার্জশিটভুক্ত আসামি হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত।
রাজপাড়া থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “চাঁন সওদাগর দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচার চলছে। নতুন করে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এ ঘটনায় নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।