ক্রিকেট বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দিল্লীর ভয়াবহ বায়ুদূষণ। বাংলাদেশ-ভারত ইস্যুতে আগে থেকেই কূটনৈতিক টানাপোড়েনে থাকা বিসিসিআই এবার আবহাওয়াজনিত চাপে পড়েছে।
কয়েকদিন আগেই দিল্লীতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া ওপেন ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করেন বিশ্ব র্যাংকিংয়ের ৩ নম্বর খেলোয়াড় এন্ডোর এন্টোনসেন। তিনি যুক্তি দেন— দিল্লীর বাতাস ব্যাডমিন্টনের মতো ইনডোর স্পোর্টসের জন্য ‘উপযুক্ত নয়’। ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন তাকে ৫ হাজার ডলার জরিমানা করলেও তিনি মালয়েশিয়াতেই থেকে যান এবং আগামী সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার টুর্নামেন্টে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এন্টোনসেন জানিয়েছেন, দিল্লীতে হতে যাওয়া ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপেও তার না যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তটি গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ বিষয়টি সাধারণ নয়, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়ই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। ফলে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক নয়, আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যগত দিকেও চলে গেছে।
এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে। মোট ৮টি ভেন্যুর মধ্যে ভারতের ৫টি এবং শ্রীলঙ্কার ৩টি স্টেডিয়াম ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত। ভারতের ভেন্যুর তালিকায় দিল্লীর আরুন জেটলি স্টেডিয়ামও রয়েছে। গ্রুপপর্বে এখানে হবে মোট ৫টি ম্যাচ। নামিবিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে এই মাঠে দুইটি করে ম্যাচ খেলতে হবে। ভারত খেলবে মাত্র একটি ম্যাচ— সেটিও নামিবিয়ার বিপক্ষে।
দিল্লীর বাতাস বর্তমানে ‘হ্যাজার্ডাস’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে বলে আইকিউএয়ার সূচকে দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এ স্তরের বাতাস এথলেটদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। স্থানীয় আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, শীতের শেষ ভাগে শহরের বায়ুমান আরও খারাপ হওয়ার প্রবণতা থাকে।
এদিকে ভারতের পক্ষ থেকে এই ইস্যুটি কম গুরুতর হিসেবে দেখানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। চাপের মুখে অনলাইন কনটেন্ট ও প্রতিবেদন সরিয়ে নিতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভারতের ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম WION গত ৭ জানুয়ারি একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেয়।
ব্যাডমিন্টনের ঘটনা সামনে আসার পর বায়ুদূষণ ইস্যুটি আর চাপা নেই। বিসিসিআই কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়— তা এখন দেখার বিষয়।