শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, সমাজ, রাষ্ট্র এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার জন্যও ব্যবহৃত হওয়া উচিত। স্বাধীনতা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চা শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন।
Independent University, Bangladesh (IUB)-এর ২৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আচার্যের পক্ষে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন খ্যাতিমান আলোকচিত্রী, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী ড. শহীদুল আলম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তৃতায় সি আর আবরার বলেন, সমাবর্তন যেমন উদযাপনের মুহূর্ত, তেমনি এটি আত্মপর্যালোচনারও সময়। শিক্ষাজীবনের শেষপ্রান্তে এসে শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর নাগরিক দায়িত্বের পথে এগিয়ে যায়। উচ্চশিক্ষা সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু একই সঙ্গে নৈতিকতা, সততা ও সচেতনতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতেও বাধ্য করে।
তিনি বলেন, নেতৃত্ব শুধু পেশাগত সাফল্য নয়। নৈতিক সংকটের মুহূর্তে যখন বিবেক ও সুবিধার সংঘাত হয়, তখনই প্রকৃত নেতৃত্বের পরীক্ষা হয়।
বক্তৃতায় তিনি দেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সংস্কারের দাবিতে অরাজনৈতিক ছাত্র আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা তিনি প্রশংসা করেন। তাদের ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাধারা ছাড়া জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। কৃষি, স্বাস্থ্য, আইটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু অভিযোজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনে IUB-এর অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।
উচ্চশিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যয় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
চলমান সংস্কারের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো একটি মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতা ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাও তার অংশ।
শেষে স্নাতক শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি সততা, নাগরিক সচেতনতা ও জনকল্যাণের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদি শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তার উদ্দেশ্য অপূর্ণ থাকে।