আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোকে হারিয়ে ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের পর দেশে ফিরেছে সেনেগালের জাতীয় ফুটবল দল ‘তেরাঙ্গা লায়ন্স’। সোমবার মধ্যরাতের ঠিক আগে বিশেষ ফ্লাইটে দলটি দেশ পৌঁছায়। রাজধানী ডাকারের বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিয়োমায়ে ফায়ে, প্রধানমন্ত্রী উসমান সোনকোসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খেলোয়াড়রা মাঠে যেমন লড়েছেন, তেমনি দেশে ফিরে পেয়েছেন উচ্ছ্বাসমুখর অভ্যর্থনা।
মঙ্গলবার ডাকারের রাস্তায় হাজার হাজার সমর্থকের উল্লাসে পরিণত হয় পুরো শহর। ব্যানার, পতাকা, গান আর করতালির ভিড়ে ‘চ্যাম্পিয়ন’দের বরণ করে নেয় সেনেগালের মানুষ।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট ফায়ে বলেন, “আপনারা যে অদম্য লড়াই, সহনশীলতা এবং কঠিন সংকল্প দেখিয়েছেন, তা এই জয়কে ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় করে তুলেছে।”
জয়ের পর সেনেগাল সরকারের পক্ষ থেকে দলকে দেওয়া হয়েছে অনন্য সম্মাননা ও পুরস্কার। ঘোষণাগুলো ছিল এমন—
খেলোয়াড়দের জন্য:
– দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে নগদ ১,১৫,০০০ ইউরো
– ডাকারের নিকটবর্তী ‘পেতিত কোট’ এলাকায় ১,৫০০ বর্গমিটার আয়তনের জমির প্লট
ফুটবল ফেডারেশনের সদস্যদের জন্য:
– প্রত্যেকে ৭৫,০০০ ইউরো
– একই এলাকায় ১,০০০ বর্গমিটারের জমির প্লট
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জন্য:
– মোট ৪,৬৫,০০০ ইউরো বরাদ্দ
– সঙ্গে সম্মিলিত জমির প্লট
সরকার বলছে, শুধু ট্রফি জেতাই নয়—এই জয় ফুটবলের মাঠ ছাড়িয়ে পুরো জাতির জন্য গর্বের মুহূর্ত। ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় দলকে এমন স্বীকৃতি দেওয়া হলেই দেশের যুবসমাজ আরও উৎসাহিত হবে বলে কর্মকর্তারা মনে করেন।
তেরাঙ্গা লায়ন্সদের এই সাফল্য সেনেগালের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে—এমনটাই জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ও সমর্থকেরা।