তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোয়ান উত্তর সিরিয়ার কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে অবিলম্বে অস্ত্র জমা দিয়ে সংগঠন বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (২১শে জানুয়ারী) পার্লামেন্টে একেপি দলের এমপিদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এখনই কুর্দি বাহিনীর অস্ত্র রাখা সমর্পন করা উচিত এবং সংগঠনটিকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে হবে।
এরদোয়ানের এই মন্তব্য আসে সিরিয়ার নতুন সামরিক সরকারের সঙ্গে সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরপরই। চলতি মাসের ১৮ জানুয়ারি দামেস্ক এবং এসডিএফের মধ্যে ১৪ দফা সংঘর্ষবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কুর্দি নিয়ন্ত্রিত বেশ কিছু এলাকা ধীরে ধীরে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।
যুদ্ধবিরতি স্বাগত জানিয়ে এরদোয়ান আবারও তুরস্কের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তার ভাষায়, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তুরস্ক সমর্থন দিলেও “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে বিবেচিত কোনো গোষ্ঠীকে টিকে থাকতে দেয়া হবে না। তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে এসডিএফকে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-এর সিরিয় শাখা হিসেবে দেখে। পিকেকে তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত।
এদিকে, এরদোয়ানের মিত্র জাতীয়তাবাদী আন্দোলন পার্টির (এমএইচপি) নেতা দেভলেত বাহচেলি আরও কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ফোরাত নদীর পূর্বাংশ থেকেও এসডিএফকে পুরোপুরি হটিয়ে দিতে হবে।
অন্যদিকে সিরিয়ার নতুন সামরিক সরকারের চলমান অভিযানে কুর্দি বাহিনী পশ্চিম ফোরাত এলাকা থেকে পিছু হটছে। ইতোমধ্যে রাক্কা, দির আল-জোর এবং হালেপোর বিস্তীর্ণ অঞ্চল সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এতে কুর্দি প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কুর্দি রাজনৈতিক দল ডেম পার্টি তুরস্ক-সীমান্ত এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছে। দলটি অভিযোগ করছে, সামরিক অভিযান ও চাপের ফলে বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি বাড়ছে এবং কুর্দিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত হুমকিতে পড়ছে।
এরদোয়ানের সর্বশেষ অবস্থান কুর্দিদের মধ্যে অস্বস্তি ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেক কুর্দি নেতা আশঙ্কা করছেন, অস্ত্র সমর্পণ করলে তাদের জনগণ আবারও রাষ্ট্রহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে—তুরস্কের এই চাপ সিরিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কী প্রভাব ফেলে, তা এখনই বলা কঠিন।