জাকির হোসেন
টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মাঠের উত্তাপ বাড়ছে। শহর থেকে গ্রাম—মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, চায়ের দোকান, বাজার ও বাড়ির আঙিনায় দোয়া, প্রচারণা ও ভোট চাওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। মাইকিং-এ নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরে প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। আসনজুড়ে তাকে ঘিরে সমর্থকদের জয়ের প্রত্যাশা এবং ‘ধানের শীষ’ মার্কা নিয়ে ভোটারদের সরব আলোচনা শোনা যাচ্ছে।
এদিকে সদর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এড. ফরহাদ ইকবালও বিরতিহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বহিষ্কার হওয়ার পরও তার মনোবল অটুট। তিনি দাবি করছেন—দল ছাড়েননি, ভোটেও জয়ী হবেন। তার বক্তব্যে সমর্থকদের মাঝে আত্মবিশ্বাসের সুর দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে রেস্তোরা, চায়ের দোকান ও আড্ডাস্থলে একটি গুজব শোনা যাচ্ছে— আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি অংশ ফরহাদ ইকবালকে গোপনে সমর্থন দিচ্ছে। তবে এই দাবির কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই এবং সংশ্লিষ্ট কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
সুশীল সমাজের কয়েকজন সচেতন নাগরিক এসব কথোপকথনকে গুজব, নির্বাচনী কৌশল ও ভিত্তিহীন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নির্বাচন সামনে আসলে টানাপোড়েন, মনস্তাত্ত্বিক চাপ, গোপন কৌশল ও ভিত্তিহীন তথ্যর গুঞ্জন বাড়ে—এগুলো ভোটের মাঠের সাধারণ বাস্তবতা।
অনেকেই মনে করেন—বিএনপির দুই প্রার্থীর অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা ও দলীয় বিভাজনের সুযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী টাঙ্গাইল জেলা আমীর আহসান হাবিব মাসুদও ভোটে জিতে যেতে পারেন।
সব দিক মিলিয়ে টাঙ্গাইল-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। ভোটাররা এখন চুপচাপ পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছেন, আর প্রার্থীরা অপেক্ষায়—শেষ মুহূর্তে কার দিকে জনসমর্থনের পাল্লা ভারী হয় তা-ই এখন দেখার বিষয়।