‘সেবা না দিলে বিল নেই’ ডা. তাসনিম জারার ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি

ঢাকা-৯ আসনের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবার বঞ্চনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। এলাকার মানুষ বলছে, তারা নিয়মিত গ্যাস, পানি ও অন্যান্য সেবার বিল পরিশোধ করলেও প্রাপ্য সেবা পান না। এই ক্ষোভ ও দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ফুটবল’ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা এলাকার জন্য তাঁর ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

ইশতেহার ঘোষণায় ডা. জারা নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন এলাকার মেয়ে হিসেবে এবং বলেন, বহুদিন ধরে ঢাকা-৯ অবহেলিত। এই অবহেলা কাটিয়ে এলাকায় সমান নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য।

ইশতেহারের সবচেয়ে আলোচ্য প্রতিশ্রুতি হলো—‘সেবা না দিলে বিল নেই’। ডা. জারা বলেন, যথাযথ গ্যাস সরবরাহ ছাড়া বিল আদায় অন্যায়। সাংসদ নির্বাচিত হলে তিনি এ ধরনের বিল নিষিদ্ধ করতে আইনি প্রস্তাব আনবেন। তিনি মনে করেন, এতে সাধারণ নাগরিকের আর্থিক বোঝা কমবে এবং সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা বাড়বে।

ঢাকা-৯ এর জলাবদ্ধতা, রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যা বহুদিনের। ইশতেহারে তিনি উন্নত ড্রেনেজ, সড়ক সংস্কার ও নিয়মিত নর্দমা পরিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমাতে পরিকল্পনা ও সমন্বয় জোরদারের কথা বলেছেন।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিপুল মানুষকে সেবা দিলেও সেখানে জনবল ও সুবিধার ঘাটতি রয়েছে—এই অভিযোগ তুলে ডা. জারা প্রস্তাব করেছেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ‘মিনি-হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু সহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলেন তিনি।

নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এজন্য স্কুল-কলেজ ও গার্মেন্টস এলাকায় নিরাপদ করিডোর, সিসিটিভি ও স্ট্রিট লাইট স্থাপনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে। একইসঙ্গে মাদক নিবারণে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন।

শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও মেধাকে সামনে রেখে তিনি বিজ্ঞান-আইটি ল্যাব, কোডিং কোর্স এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ নামে একটি তহবিলের প্রস্তাব রাখেন, যাতে উদ্যোক্তারা সহজ ঋণ সহায়তা পেতে পারে। কর্মরত মায়েদের সহায়তায় পরিবার সাপোর্ট সেন্টার করার কথা বলেছেন তিনি।

সাংসদ হলে এলাকায় স্থায়ী অফিস, নির্দিষ্ট সময়ে জনগণের সমস্যা শোনা এবং ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডে অভিযোগকারীর অভিযোগ কি অবস্থায় আছে তা দেখানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এতে নির্বাচিত প্রতিনিধির সঙ্গে এলাকার মানুষের সরাসরি যোগাযোগ ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মনে করেন ডা. জারা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *