টাঙ্গাইলের নাগবাড়ী হাসিনা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি বুলবুল খান মাহবুব এবং বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আফরোজ হোসেন সিদ্দিকীকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরারের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর অনুপ্রেরণাদায়ী পরিবেশে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী, স্থানীয় বিশিষ্টজনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
আলোচনা সভার শুরুতে অধ্যাপক আবরার বহুমাত্রিক সাহিত্যিক ও গবেষক ড. আশরাফ সিদ্দিকীর স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি সাহিত্যকে শুধু ঘরের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখেননি; গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে লোকসাহিত্য সংগ্রহের মাধ্যমে গবেষণাভিত্তিক সাহিত্যচর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাঁর সাইকেল ও টেপ রেকর্ডার হাতে লোকসংস্কৃতি সংগ্রহের প্রয়াস এখনও বিরল উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে ড. আশরাফ সিদ্দিকী দেশের মাটিতে ফিরে এসে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষাবিকাশে নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন। তাঁর চাহিদা ছিল সামান্য কিন্তু অবদান ছিল বিপুল। দেশের সাহিত্য সংগঠন, নাট্যসংস্থা, পাঠাগার আন্দোলন এবং শিক্ষা সংস্কারে তাঁর ভূমিকা আজ ইতিহাসের অংশ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যাপক আবরার বলেন, দেশপ্রেম মানে শুধু ইতিহাস স্মরণ নয়; সততা, দায়িত্ববোধ, ন্যায়বোধ, মানবিকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালনই প্রকৃত দেশপ্রেম।
তিনি পরীক্ষায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নম্বর বাণিজ্য ও কৃত্রিম ফলাফলের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
এছাড়া শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তকের মানোন্নয়ন, শতভাগ বই বিতরণ, সহশিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি বহুত্ববাদ ও বৈচিত্র্যের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। অধ্যাপক আবরার বলেন, ভাষা, সংস্কৃতি, জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য বাংলাদেশের শক্তি। এই বৈচিত্র্য ধারণ করেই মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও প্রগতিশীল দেশ গড়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক আবুল কাশেম চৌধুরী।
আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন শেষে দুই বরেণ্য গুণীজনকে আজীবন সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা।