নারীর নেতৃত্ব ইসলামসম্মত নয়—এমন অবস্থান তুলে ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীতে নারীরা শীর্ষ পদে আসতে পারবেন না। এটি মেনেই তারা রাজনীতি করেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
কোরআনের ব্যাখ্যা তুলে ধরে নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেন, ইসলামের বিধান অনুযায়ী পুরুষ হলো নারীর পরিচালক। তাই একটি ইসলামী সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীতে নারীরা পরিচালক বা শীর্ষ নেতৃত্বে যেতে পারবেন না। তিনি বলেন, শীর্ষ পদে নারী থাকা তাদের কাছে মুখ্য নয়; মূল বিষয় হলো নারীর অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে কি না।
তিনি আরও বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী থাকলেও নারীদের নিরাপত্তা বাড়েনি। জামায়াত এমন নেতৃত্ব চায়, যারা মানবিক হবে—এটাই তাদের মূল লক্ষ্য।
তবে নারীদের অংশগ্রহণ অস্বীকার করা হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরার উপদেষ্টা কমিটিতে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নারীদের অংশগ্রহণ রয়েছে।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের এক অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন নুরুন্নেসা সিদ্দীকা। নজরুল ইসলাম খান নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছিলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরে থাকা ব্যক্তিদের দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ‘শান্তি কমিটি’ গঠন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে অবগত নয় জানালেও নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেন, “সুস্থ কোনো দল এবং সুস্থ কোনো মানুষ শান্তি কমিটি নিয়ে কথা বলতে পারে না।”
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেত্রী ও মহিলা বিভাগের প্রতিনিধি দল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হাবিবা চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী। তারা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চান। তিনি দাবি করেন, বিগত ১৫–১৬ বছর নারীরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবার সেই সুযোগ নষ্ট করতে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্র করছে।
ডা. হাবিবা চৌধুরী আরও জানান, দেশের ১৫টি স্থানে নারীদের ওপর হামলার সচিত্র নথিপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, ভয় দেখিয়ে নারীদের দমিয়ে রাখা যাবে না; নারীরা সাহসী এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
এদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ভোটের প্রচারণায় গেলে জামায়াতের নারী কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্ট হ্যাকের অভিযোগও নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। তার দাবি, নারীদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে আমিরের বক্তব্যের পর পরিকল্পিতভাবে একাউন্ট হ্যাক করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেলে নারীদের নিয়ে একটি অবমাননাকর পোস্ট দেওয়া হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একাউন্ট হ্যাক করে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় শনিবার ভোররাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন দলের নির্বাচন প্রচারণা টিমের সদস্য ও ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।