আসিয়ান সদস্যপদ পেল টিমর-লেসতে

 

এশিয়ার সর্বকনিষ্ঠ দেশ টিমর-লেসতে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে আসিয়ান (ASEAN)–এর একাদশ সদস্য। শনিবার (২৫ অক্টোবর) কুয়ালালামপুরে আয়োজিত আসিয়ান সম্মেলনে দেশটির সদস্যপদ অনুমোদন দেয় সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।

২০০২ সালে স্বাধীনতা পাওয়া টিমর-লেসতে ২০১১ সালে আসিয়ানে যোগ দেওয়ার আবেদন করে। দীর্ঘ ১৪ বছরের আলোচনার পর অবশেষে সদস্যপদ পেল দেশটি। ২০২২ সালে তারা পর্যবেক্ষক মর্যাদা পেয়েছিল।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বপ্নপূরণ

টিমর-লেসতের প্রধানমন্ত্রী জোনি গুতেরেস বলেন, “এটি আমাদের স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় অর্জন। আসিয়ানের অংশ হতে পারা মানে আমরা এখন এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ।”

প্রায় ১৫ লাখ মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রান্তে অবস্থিত। দেশটি তেল, গ্যাস ও কৃষিপণ্যের ওপর নির্ভরশীল হলেও অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানে এখনো পিছিয়ে আছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সদস্যপদ পাওয়ার মাধ্যমে টিমর-লেসতের সামনে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় তারা এখন সরাসরি অংশ নিতে পারবে।

আসিয়ানের প্রথম সম্প্রসারণ

১৯৯৯ সালে কম্বোডিয়ার যোগদানের পর এটিই আসিয়ানের প্রথম সম্প্রসারণ। সংগঠনটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১১। অন্য ১০টি দেশ হলো—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও ব্রুনেই।

আসিয়ান চেয়ারম্যান লি হিয়েন লুং বলেছেন, “এটি আমাদের অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা। টিমর-লেসতে এখন আমাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবে, একটি শান্ত ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য।”

তবে সদস্যপদের সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জও আসছে। টিমর-লেসতের অর্থনীতি ছোট, প্রশাসনিক দক্ষতা সীমিত এবং অবকাঠামো দুর্বল। আসিয়ানের সিদ্ধান্তগুলো সাধারণত সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়, ফলে নতুন সদস্য হিসেবে দেশটির সক্ষমতা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, টিমর-লেসতের যোগদান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার প্রভাব–প্রতিযোগিতার এই সময়ে ছোট দেশটির ভূমিকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা

বাংলাদেশের জন্যও টিমর-লেসতের এই পদক্ষেপ শিক্ষণীয় বলে মনে করছেন গবেষকেরা। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগ বাড়াতে বাংলাদেশও দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য ও পরিবহন সহযোগিতার উদ্যোগ নিচ্ছে। টিমর-লেসতের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

স্বাধীনতার দুই দশক পর আসিয়ানের সদস্যপদ পেয়ে টিমর-লেসতে এখন নতুন যাত্রা শুরু করেছে। ছোট অর্থনীতি, সীমিত সম্পদ—সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জ বড়, কিন্তু সুযোগও ততটাই বিশাল। এখন দেখার বিষয়, দেশটি কত দ্রুত আঞ্চলিক সংহতির সুফল ঘরে তুলতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *