
বাংলাদেশে শুরু হয়েছে একটি দুই বছরের মিডিয়া লিটারেসি (Media Literacy) প্রকল্প, যার লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মকে তথ্য যাচাই, সংবাদ বিশ্লেষণ ও সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতায় সমৃদ্ধ করা। প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আর বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল।
প্রকল্পের উদ্বোধন হয় রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত হোটেল সারিনায় আয়োজিত পাঁচ দিনের আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর মারিয়া রহমান (Maarya Rehman)। তিনি বলেন,
“আজকের যুগে তথ্যই শক্তি। কিন্তু সেই তথ্যকে যাচাই করার ক্ষমতা না থাকলে মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হয়। আমরা চাই তরুণরা যেন তথ্যের উৎস ও সত্যতা সম্পর্কে সচেতন হয় এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলে।”
ULAB-এর নেতৃত্বে প্রকল্প বাস্তবায়ন
কর্মশালাটি পরিচালনা করছে ULAB (University of Liberal Arts Bangladesh)-এর MSJ-CQS (Media Studies and Journalism – Center for Critical Qualitative Studies) বিভাগ। এই কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন আরও আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সমন্বয়করা, যারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী ধাপে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ
প্রকল্পের আওতায় অংশ নিচ্ছে দেশের নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়। সূত্র জানায়, এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- University of Liberal Arts Bangladesh (ULAB)
- Dhaka University (DU)
- Jahangirnagar University (JU)
- University of Chittagong (CU)
- Rajshahi University (RU)
- North South University (NSU)
- Independent University, Bangladesh (IUB)
- BRAC University (BRACU)
- American International University – Bangladesh (AIUB)
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্মকে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তে সক্ষম করে তোলা। এর পাশাপাশি—
- অনলাইন সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা,
- সমালোচনামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি বিকাশ করা,
- বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মিডিয়া লিটারেসি বিষয়কে পাঠ্যক্রম ও ক্লাব কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা,
- এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনাকে উৎসাহিত করা।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের ভূমিকা ও প্রত্যাশা
ব্রিটিশ কাউন্সিল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে নানা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। নতুন এই প্রকল্পটিকে প্রতিষ্ঠানটি দেখছে “ডিজিটাল যুগে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও তথ্যনির্ভর নাগরিক চেতনা গঠনের একটি বিনিয়োগ” হিসেবে।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর মারিয়া রহমান বলেন,
“বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে যে সৃজনশীলতা ও উদ্যম আছে, সেটাকে যদি সত্য-ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তবে তারা সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী এজেন্টে পরিণত হবে।”
প্রকল্পের আওতায় আগামী দুই বছরে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত হবে ‘মিডিয়া লিটারেসি ক্লাব’, যেখানে শিক্ষার্থীরা সংবাদ বিশ্লেষণ, তথ্য যাচাই এবং নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা করবে। পাশাপাশি, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যৌথভাবে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হবে।
ডিজিটাল যুগে যেখানে তথ্য ও ভুয়া সংবাদ একসাথে ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে মিডিয়া লিটারেসি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং নাগরিক জীবনের অপরিহার্য দক্ষতা। ব্রিটিশ কাউন্সিলের এই প্রকল্প বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে—যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধুমাত্র জ্ঞান বিতরণের কেন্দ্র নয়, বরং তথ্যনির্ভর, যুক্তিসম্মত ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠবে।