তায়কোয়ানডো দলের কোচ নিয়ে বিতর্ক

 

২০২৬ সালের ১৪তম সাউথ এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে তায়কোয়ানডো জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা কোচ মো. কামরুজ্জামান চঞ্চলের অধীনে প্রশিক্ষণ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন একাধিক জাতীয় তায়কোয়ানডো খেলোয়াড়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিভাগের উপপরিচালক কামরুজ্জামান চঞ্চল একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এবং রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ২০২৬ সালের সাউথ এশিয়ান গেমসের তায়কোয়ানডো জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কিন্তু জানা গেছে, তিনি একটি হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি। রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে ৪২ নম্বর আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা, চাপাতি, ককটেল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়, যাতে ছাত্র আমানুল্লাহ আমান গুরুতর আহত হন।

এই ঘটনার পর থেকেই কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে “ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ কর্মকাণ্ডে জড়িত” থাকার অভিযোগ ওঠে। তবুও তিনি বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের (অ্যাডহক কমিটি) সহযোগিতায় জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পের কোচের দায়িত্বে রয়েছেন।

এই নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তায়কোয়ানডো খেলোয়াড়রা। তাঁরা বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল এরশাদুল হকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড় দিপু চাকমা কোচ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় তাকে নানা মিথ্যা অভিযোগে ক্যাম্প থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর প্রতিবাদে জাতীয় দলের একাধিক খেলোয়াড় ক্যাম্প থেকে পদত্যাগ করেন।

বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বরাবর দেওয়া পদত্যাগপত্রে খেলোয়াড়রা লিখেছেন, “কোচ মো. কামরুজ্জামান চঞ্চল ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রভাবিত বা অন্যায় প্রবণ ব্যক্তির অধীনে প্রশিক্ষণ নিতে রাজি নই।”

তাঁরা আরও অভিযোগ করেছেন, অ্যাডহক কমিটির ছাত্র প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং খেলোয়াড় ইলিয়াসকে অন্যায়ভাবে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়া মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ফৌজদারি মামলার অভিযুক্ত ও বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হাতে জাতীয় দলের দায়িত্ব কেন এবং কিভাবে দেওয়া হলো। খেলোয়াড়দের পদত্যাগ ও ক্ষোভ জাতীয় তায়কোয়ানডো দলের প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও জবাবদিহির দাবি নতুন করে সামনে এনেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *