শেয়ার হস্তান্তরের পর নতুন নামে যাত্রা শুরু নোভারটিসের

 

সিংহভাগ শেয়ার হস্তান্তরের পর নোভারটিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড এখন নতুন নামে— নেভিয়ান লাইফসায়েন্স পিএলসি— হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। তবে নতুন নামেও লাইসেন্সিং চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে নোভারটিসের বিশ্বখ্যাত ওষুধের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ অব্যাহত থাকবে।

১৭ অক্টোবর ঢাকার একটি হোটেলে নেভিয়ানের উৎপাদিত নোভারটিসের প্রথম ব্র্যান্ড ‘গ্যালভস মেট’ এর মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান, রেডিয়েন্ট ফার্মার চেয়ারম্যান ও নেভিয়ানের উদ্যোক্তা নাসের শাহরিয়ার জাহেদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান, শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিল দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন লিওনার্দো ডি অলিভেইরা জানুজ্জি।

বক্তারা বলেন, মালিকানা পরিবর্তনের পরও নোভারটিসের উদ্ভাবনী ওষুধগুলো বাংলাদেশের রোগীদের কাছে একইভাবে পৌঁছে যাবে—এটি দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য ইতিবাচক খবর।

নেভিয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুসাওয়াত শামস জাহেদী বলেন, “নোভারটিসের উৎপাদন ও মাননিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হুবহু অনুসরণ করা হবে। একই ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টে একই উপাদান, প্রক্রিয়া ও দক্ষ জনবল ব্যবহারের কারণে ওষুধের গুণগত মানে কোনো পরিবর্তন হবে না।”

রেডিয়েন্ট ফার্মার চেয়ারম্যান ও নেভিয়ানের পরিচালক নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, “বিগত ৫০ বছর ধরে নোভারটিস বাংলাদেশের চিকিৎসক ও রোগীদের আস্থার প্রতীক। তাদের শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পর সেই আস্থা ধরে রাখতেই নেভিয়ানের যাত্রা।”

স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান অনুষ্ঠানে বলেন, “নেভিয়ানের ব্যানারে নোভারটিসের ওষুধ উৎপাদন শুধু ব্যবসায়িক নয়, এটি দেশের ওষুধশিল্পের আত্মনির্ভরতার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা।”

উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে বিসিআইসি’র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সিবা গেইগি বাংলাদেশ লিমিটেড নামে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৯৬ সালে স্যান্ডোজের সঙ্গে একীভূত হয়ে নাম হয় নোভারটিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড। সম্প্রতি নোভারটিস এজি বাংলাদেশে তাদের শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি রেডিয়েন্ট ফার্মা তা অধিগ্রহণ করে।

যদিও মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে, বিসিআইসি’র শেয়ারহোল্ডিং অপরিবর্তিত থাকবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশে নোভারটিসের নতুন উদ্ভাবিত ওষুধের আমদানিকারক হিসেবেও কাজ করবে নেভিয়ান।

বর্তমানে টঙ্গীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুড ম্যানুফ্যাকচারিং সনদপ্রাপ্ত কারখানা থেকে নেভিয়ান ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ এবং বায়োটেকনোলজি খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনাও জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *