জাতীয় কবিতা পরিষদ: জমজমাট ৫২তম কবিতাপাঠ ও আলোচনা

 

জাতীয় কবিতা পরিষদের নিয়মিত কবিতাপাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের ৫২তম আসর অনুষ্ঠিত হয় গত ২৯ অক্টোবর, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায়, রাজধানীর ২৬ ইস্কাটন গার্ডেন রোডের ‘কাজল মিলনায়তনে’।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান
স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন

স্বাগত বক্তব্যে কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন,
“জাতীয় কবিতা পরিষদের সাপ্তাহিক কবিতাপাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানটি এখন নিয়মিতভাবে জমজমাট ও আনন্দমুখর হয়ে উঠেছে—এটি আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। শুরুতে কোন দিনটি নির্ধারণ করা হবে তা নিয়ে দ্বিধা ছিল। পরে মঙ্গলবার নির্বাচন করার কারণ ছিল বাস্তবসম্মত—এদিন নিউমার্কেটের আশপাশের দোকানপাট বন্ধ থাকে এবং যান চলাচলও তুলনামূলক কম হয়। ফলে এই দিনটিই উপযুক্ত প্রমাণিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,
“প্রতি বছরের মতো আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১ ও ২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় কবিতা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন বা ‘জাতীয় কবিতা উৎসব’। এই উৎসব সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।”
তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় কবিতা পরিষদ সম্মেলন উদ্‌যাপন উপলক্ষে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে কবি মোহন রায়হান আমন্ত্রিত কবিদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন,
“আমাদের নগর সভ্যতার এত ব্যস্ততা, এত জটিলতা সত্ত্বেও কবিরা কাব্যকে ভালোবেসে এখানে উপস্থিত হন—এটি বাংলা কবিতার জন্য এক বিরাট আনন্দ, গর্ব ও গৌরবের বিষয়।”

তিনি আরও বলেন,
“জাতীয় কবিতা পরিষদের ৩৮ বছরের ঐতিহ্য আমরা এক বছরের মধ্যে নতুন প্রাণে উজ্জীবিত করেছি। রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে কবিতা পরিষদ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে—যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অনন্য। এই মূল্যায়ন শুধুই আমার নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেরাই তা স্বীকার করেছেন।”

কবি মোহন রায়হান গত এক বছরের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল—জাতীয় কবিতা পরিষদের পুনর্গঠন সভা, ‘স্বৈরাচারমুক্ত জাতীয় কবিতা পরিষদ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন, ‘জুলাই বিপ্লবের কবিতা পাঠ’, ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লবের কবিতা পাঠ’, কুমিল্লা জেলা কবিতা উৎসব, ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠনে লেখক-শিল্পীদের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা, ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার প্রতিবাদে র‌্যালি ও সভা, কবি হেলাল হাফিজ স্মরণসভা, জাতীয় কবিতা উৎসব ও পর্যালোচনা সভা, উৎসব পুনর্মিলনী, একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার বিতরণ, ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদ সভা ও র‌্যালি, স্বাধীনতার কবিতাপাঠ ও আলোচনা, গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদসভা ও প্রতিরোধের কবিতাপাঠ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদ্‌যাপন নস্যাতের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, চারুকলার ডিন ও উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভা, আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত সাপ্তাহিক কবিতাপাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠান।

তিনি জানান,
“এ পর্যন্ত সাতটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন হয়েছে। আমরা স্বাধীনতা, সাম্য ও সম্প্রীতির জন্য কবিতা—এই ধারণাকে ভিত্তি করে কাব্য আন্দোলন গড়ে তুলছি। কাব্যচর্চার মাধ্যমে সুস্থ, সুন্দর ও সংস্কৃতিমনা জাতি গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

অনুষ্ঠানে পঞ্চাশাধিক কবি স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কবি মোহন রায়হান, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, কবি এবিএম সোহেল রশিদ, কবি নূরুন্নবী সোহেল, কবি আসাদ কাজল, কবি মনজুরুর রহমান, কবি মানব সুরত, কবি গোলাম শফিক, কবি ক্যামেলিয়া আহমেদ, কবি ইউসুফ রেজা, কবি রোকন জহুর, কবি মনিরুজ্জামান রোহান, কবি শিমুল পারভীন, কবি নিপু মল্লিক, কবি জামিল জাহাঙ্গীর, কবি জামসেদ ওয়াজেদ, কবি কৌমুদী নার্গিস, কবি গাজী আব্দুল আলীম, কবি কামরুজ্জামান, কবি ফরিদুজ্জামান, কবি মতিউর রহমান মানু, কবি জয়নুল আবেদীন জয়, কবি হরষিত বালা, কবি বাপ্পী সাহা, কবি রলি আক্তার, কবি টিমুনী খান রীনো, কবি তাসকিনা ইয়াসমিন, কবি এস. এস. রুশদী, কবি কাব্য রাসেল, কবি রানা জামান, কবি রুহুল আমীন রুদ্র, রোকসানা খাতুন, কবি শিশির বিন্দু বিশ্বাস, কবি সাইফুল্লাহ জুয়েল, কবি শাহাজাদা সেলিম, কবি মো. জহরুল ইসলাম মনজু, কবি আরিফ মঈনুদ্দীন, কবি এস. এম. লুৎফর রহমান, কবি এম. এ. কায়েস, কবি আব্দুল বাতেন, কবি প্রভাবতী চক্রবর্তী, কবি মিঠু কবির, কবি কে. এম. বখতিয়ার, কবি রাসেল আহম্মেদ, কবি আউয়াল খন্দকার, কবি মালেক মাহমুদ, কবি নীপা চৌধুরী, কবি আতিকুজ্জামান খান, কবি হানিফ রাশেদীন, কবি শরীফ খান দীপ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি টিমুনী খান রীনো

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *