কুমিল্লায় কালীবাড়ি জমি দখলের অভিযোগে সংখ্যালঘু ঐক্য মঞ্চের মানববন্ধন

 

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর বিশ্বরোড সংলগ্ন আমতলী সার্বজনীন কালীবাড়ির জায়গা দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু ঐক্য মঞ্চ। শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা অভিযোগ করেন, কালীবাড়ি সংলগ্ন জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ভূমিদস্যু নজরুল ইসলাম গং জোরপূর্বক ওই স্থানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে। তারা বলেন, এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে কালীবাড়ি কমিটির সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে, ফলে স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বক্তারা দাবি করেন, উচ্চ আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি ভূমি যাতে কেউ দখল করতে না পারে, সে জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, মহানগর আহ্বায়ক কমল চন্দ খোকন, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ অচিন্ত দাশ টিটু, যোগেশ সরকার, ডা. মধুসূদন রায়সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মধুসূদন বিশ্বাস লিটন।

এ সময় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বৃটিশ আমল থেকে এই জমি কালীবাড়ির নামে পরিচিত। এখানে নিয়মিত মহোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হতো, যেখানে হাজারো মানুষ অংশ নিতেন। তারা দাবি জানান, কালীবাড়ির জায়গাটি যেন ধর্মীয় সম্পত্তি হিসেবেই থাকে এবং ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে যেন কেউ তা দখল করতে না পারে।

মামলার নথি অনুসারে জানা যায়, উক্ত ভূমির মূল মালিক ছিলেন শ্রী শ্রী রাজা রাধা কিশোর মানিক্য বাহাদুর। সিএস ও আরএস জরিপে জমিটি ‘কালীবাড়ি’ হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকলেও পরবর্তী বিএস জরিপে সেটি ‘চারা ভিটি’ হিসেবে সরকারি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ নিয়ে কুমিল্লা সহকারী জজ আদালতে মামলার পর তা খারিজ হলে বাদীপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল (নং-২৯১/২০২৫) করেছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

বক্তারা বলেন, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কালীবাড়ির মন্দির ও বটবৃক্ষ ধ্বংস হয়, তবে স্থানীয়রা চান ঐতিহাসিক এই স্থানের ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ণ থাকুক।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *