গ্রিস ও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বছরের এলএনজি চুক্তি

এবার সময় এসেছে পরিবর্তনের। ইউরোপীয় জ্বালানী নিরাপত্তার মঞ্চে এক বড় রূপান্তর ঘটতে যাচ্ছে। গ্রীস শুক্রবার ঘোষণা করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী ২০ বছর ধরে প্রতি বছর অন্তত ৭০০ মিলিয়ন ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে   — এই চুক্তি কার্যকর হবে ২০৩০ সাল থেকে। ইউএস–গ্রিস এই লম্বা মেয়াদের চুক্তি, শুধু দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য নয়: এটি রাশিয়ার গ্যাস উৎসের ওপর থেকে ইউরোপের নির্ভরতা কমানোর একটি নির্দেশক চিহ্ন।

চুক্তি একটি ২০ বছরের লম্বা চুক্তি, যা ২০৩০ সাল থেকে কার্যকর হবে। প্রতি বছর ৭০০ মিলিয়ন ঘনমিটার এলএনজি আমদানির প্রযুক্তিগত দায়িত্ব গ্রিস নেয়। গ্রিসের দুই বড় কোম্পানি — DEPA Commercial ও AKTOR — যুক্ত হয়েছে চুক্তিতে, আমদানিকারক হিসেবে। আমেরিকার দিকে থেকে থাকছে Venture Global LNG, লুইজিয়ানায় এক্সপোর্ট সুবিধা নির্মাণ করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এ চুক্তি ইউরোপীয় বাজারকে রুশ গ্যাস থেকে সরিয়ে নেওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

গ্রিস শুধু গ্যাস আমদানিকারক নয় — এটিকে ইউরোপের “গেটওয়ে” হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার গ্যাস ইউরোপে প্রবেশের পথ বড় একটি আলোকচিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং এখন গ্রিস সেই পথ বদলাতে চায়। তাদের উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে গ্যাস রপ্তানি লিংক তৈরি করতে পরিকল্পনা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও রুশ গ্যাস থেকে মুক্ত হওয়ার পরিকল্পনায় রয়েছে — ২০২৭ সাল থেকে রুশ গ্যাসের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

এই চুক্তি ২০৩০ সাল থেকে কার্যকর হবে — তার আগেই বাজার, প্রযুক্তি, পরিবেশনীতি সবই বদলে যেতে পারে। এলএনজি পরিবহন ও রিগ্যাসিফিকেশন — অর্থ, সময় ও পরিকাঠামো বড় দায়িত্ব। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে: গ্যাস একটি ‘ব্রিজ’ জ্বালানি হতে পারে, তবে উগ্র কার্বন নির্গমন কমিয়ে আনার চাপও আছে। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপীয় শক্তি নিরাপত্তা বলয়, গ্রীস ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক — সবকিছু এক সঙ্গে সরল নয়।

গ্রিস নিজেকে শক্তি রপ্তানির ও পরিবহন হাবে পরিণত করার সুযোগ পাচ্ছে। ইউরোপ: গ্যাস উৎস বৈচিত্র্য বাড়ছে — রুশ গ্যাসের জটিলাতি কমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র: ইউরোপীয় শক্তি বাজারে লক্ষ্যমাত্রায় প্রবেশ করছে। তবে সাধারণ মানুষ ও শিল্প ক্ষেত্রের জন্য গ্যাসের মূল্য, সরবরাহ নিরাপত্তা ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে নজরদারি জরুরি।

যেসব বছর আগে ইউরোপীয় গ্যাস সরবরাহ মূলত রুশ পাইপলাইনের ওপর নির্ভরশীল ছিল, আজ তা বদলে যেতে শুরু করেছে। গ্রিস ও যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি সেই পরিবর্তনের এক প্রতীক। তবে প্রতীকই যথেষ্ট নয়, বাস্তবায়ন করে দেখাতে হবে। ২০৩০ পরবর্তী ইউরোপীয় গ্যাস ছবি কি একই থাকবে? চুক্তি শুরু হলে হয়তো সেটিই স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *