বরিশালের বানারীপাড়ায় ভোর ও সন্ধ্যা ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারদিক। গত দুই দিনে সেই কুয়াশার পর্দা নামতেই টের পাওয়া যাচ্ছে শীতের আগমন। শীতের হাওয়া ছুঁয়েছে মানুষকে, সঙ্গে এনেছে পিঠার মৌসুমও।
উপজেলাজুড়ে এখন চলছে বাহারি পিঠার বিক্রির ধুম। বানারীপাড়ার ফেরিঘাট, সন্ধ্যা নদীর তীর, রাস্তার মোড় ও অলিগলি—সবখানেই জমে উঠেছে পিঠার দোকান। সকাল-সন্ধ্যা ভিড় জমাচ্ছেন নানা বয়সী ক্রেতারা।
পিঠাপ্রেমীদের মতে, ঘরে পিঠা তৈরির আগ্রহ কিছুটা কমলেও রাস্তার দোকানেই এখন মিলছে নানা স্বাদের পিঠা। কেউ আসছেন চায়ের সঙ্গে গরম ভাপা পিঠা খেতে, কেউবা সাঁজের পিঠার মিষ্টি স্বাদ নিতে।
ফেরিঘাট এলাকার ক্রেতারা জানান, মাত্র ১০ টাকায় নারকেল ও গুড়ের ভাপা পিঠা কিংবা সাঁজের পিঠা পাওয়া যায়। “খেতে ভালো লাগে, তাই প্রতিদিনই আসি,” বললেন স্থানীয় বাসিন্দা মিজান হোসেন।
পিঠা বিক্রেতা কাওসার শরীফ জানান, “সপ্তাহখানেক ধরে পিঠা বিক্রি করছি, তবে গতকাল (১০ নভেম্বর) থেকে বেচাবিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। সকাল থেকেই লোকজন পিঠা খেতে ভিড় করছেন।”
স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর শীতের শুরুতে বানারীপাড়ায় এমন পিঠার উৎসব দেখা যায়। সন্ধ্যা নদীর ঘাটে, ফেরিঘাটে কিংবা বাজারের মোড়ে—গরম ভাপা পিঠার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকাজুড়ে।
শীতের আগমনে তাই বানারীপাড়ার সকাল-সন্ধ্যা এখন কুয়াশার চাদরে মোড়া, আর বাতাসে ভাসছে ভাপা পিঠার মিষ্টি সুবাস।