ACS–BlackRock ২৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আর ক্লাউড প্রযুক্তির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডেটা-সেন্টার এখন নতুন বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু। এই বাজারেই ইতিহাস গড়ল স্পেনের অবকাঠামো কোম্পানি ACS এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ জায়ান্ট BlackRock। দুই প্রতিষ্ঠান মিলে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল চুক্তি করেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডেটা-সেন্টার চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই চুক্তির আওতায় BlackRock-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান Global Infrastructure Partners (GIP), ACS-এর “ডিজিটাল অ্যান্ড এনার্জি” বিভাগে ৫০ শতাংশ মালিকানা নিচ্ছে। এই বিভাগের কাজ মূলত ডেটা-সেন্টার তৈরি, পরিচালনা এবং এর জন্য নবায়নযোগ্য শক্তি সরবরাহ করা।

রয়টার্সফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, এই অংশীদারত্বের জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরো নগদ বিনিয়োগ এবং আরও ১৮ বিলিয়ন ইউরো ঋণ জোগাড় করা হয়েছে। বাকি অর্থ আসবে প্রকল্প পরিচালনা থেকে অর্জিত আয়ের মাধ্যমে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অংশীদারিত্ব এআই এবং ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ভবিষ্যত গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান—মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যামাজন ও নভিডিয়া—আগামী বছরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোয় শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগের একটি বড় অংশ যাবে বিদ্যুৎ ও ডেটা-সেন্টার নেটওয়ার্কে।

এমন প্রেক্ষাপটে ACS ও BlackRock-এর যৌথ উদ্যোগকে বাজার বিশ্লেষকেরা “ডিজিটাল যুগের পাওয়ার গেম” বলে অভিহিত করেছেন। কারণ, আধুনিক ডেটা-সেন্টার মানেই কেবল সার্ভার নয়, বরং তা নির্ভর করে টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবেশবান্ধব কুলিং ব্যবস্থা এবং নিরাপদ ডেটা সংরক্ষণ অবকাঠামোর ওপর।

ACS ইতিমধ্যেই ইউরোপে কয়েকটি বড় ডেটা-সেন্টার প্রকল্প চালাচ্ছে—যেমন মাদ্রিদে ৩৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার “সাইবেরিয়া ক্যাম্পাস” এবং নরওয়ের ওসলোতে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার “নরডিক হাব”, যেখানে শতভাগ জলবিদ্যুৎ দিয়ে সার্ভার চালানো হয়। নতুন চুক্তির ফলে এসব প্রকল্পের গতি আরও বাড়বে।

ACS চেয়ারম্যান ফ্লোরেন্টিনো পেরেস বলেছেন, “এই অংশীদারত্ব আমাদের ডিজিটাল ইউনিটকে ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত-বর্ধনশীল প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে পরিণত করবে।”

অন্যদিকে GIP পার্টনার বেইলি কম্পটন বলেছেন, “এআই যুগে বিদ্যুৎই হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। যে কোম্পানি ‘গ্রিন এনার্জি’সহ ডেটা-সেন্টার দিতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতের বাজার দখল করবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও শিক্ষণীয়। বাংলাদেশে যদি ভবিষ্যতে বড় আকারে ডেটা-সেন্টার গড়ে তোলা হয়, তবে শুধু জমি নয়—বিদ্যুৎ সরবরাহ, নবায়নযোগ্য শক্তি, এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি (PPA) আগেভাগে নিশ্চিত করতে হবে। তা হলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা আরও আগ্রহী হবে।

বিশ্বের অর্থনীতি এখন “ডেটা-এনার্জি মিক্স” বা তথ্য ও শক্তির মেলবন্ধনে এগোচ্ছে। ACS ও BlackRock-এর এই চুক্তি প্রমাণ করছে—এআই যুগে টিকে থাকতে হলে কেবল সার্ভার নয়, শক্তি কেন্দ্রও গড়তে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *