বিশ্ব তেলবাজার নিয়ে ওপেকের নতুন পূর্বাভাসে আগের ধারণা পাল্টে গেছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২৬ সালে বাজারে ঘাটতি নয়, বরং সামান্য উদ্বৃত্ত দেখা দিতে পারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই পূর্বাভাস প্রকাশের পরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে।
ওপেকের সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী তেলচাহিদা থাকতে পারে ১০৬.২ মিলিয়ন ব্যারেল, যা আগের হিসাবের মতোই। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, কানাডা ও গায়ানার মতো ওপেক-বহির্ভূত দেশগুলো দ্রুত উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হতে পারে।
ওপেক জানাচ্ছে, আগামী দুই বছরে তাদের তেলের চাহিদা হতে পারে প্রতিদিন ৪৩ মিলিয়ন ব্যারেল, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে সামান্য কম। বর্তমান উৎপাদন যদি অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার ব্যারেল উদ্বৃত্ত থাকতে পারে।
এই তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই দামে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩.৬৭% কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬২.৭৭ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডও ৪.১% কমে নেমেছে ৫৮.৫৫ ডলারে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পূর্বাভাস বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আরও দাম কমার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
দাম কমতে থাকায় ওপেক ও তার মিত্র দেশগুলো (ওপেক+) ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের শুরুতে উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, প্রয়োজনে উৎপাদন কমানোর মতো যথেষ্ট সক্ষমতা তাদের আছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) আরও বড় উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের ধারণা, ওপেক-বহির্ভূত দেশগুলোর সরবরাহ বৃদ্ধি বাজারকে আরও চাপের মুখে ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে ওপেকের নতুন হিসাব বলছে—তেলবাজার এখন আর ঘাটতির দিকে নয়। উৎপাদন বাড়া এবং চাহিদা স্থির থাকায় ২০২৬ সালে সামান্য উদ্বৃত্ত দেখা দিতে পারে। তবে এই পরিস্থিতি টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে ওপেকের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থার ওপর।