বারবেরির ঘুরে দাঁড়ানো: ঐতিহ্যে ফিরে বিক্রয়ও ফিরল পথে

 

ব্রিটেনের ১৬৯ বছরের পুরনো বিলাসবহুল ব্র্যান্ড বারবেরি কয়েক বছর ধরে বিক্রয়হ্রাস, বাজারে প্রতিযোগিতা আর ভুল কৌশলের চাপ সামলাচ্ছিল। তবে এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো খুচরা বিক্রয়ে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বাভাসেরও বেশি। এই ফলেই পরিষ্কার, চেয়ারম্যান জশুয়া শুলম্যানের ‘বারবেরি ফরওয়ার্ড’ পরিকল্পনা ধীরে ধীরে কার্যকর হচ্ছে। ইতিবাচক খবরের পর লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বারবেরির শেয়ারদাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে যায়।

গত দশকে হাই-ফ্যাশনের দৌড়ে বারবেরি নিজের মূল পরিচয় থেকে সরে গিয়েছিল। দাম বাড়িয়ে ব্যাগ বা জুতায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করে ফল পায়নি। শুলম্যান স্বীকার করেন, তারা “খুব দ্রুত, খুব দূরে চলে গিয়েছিলেন।” তাই গত বছর থেকে ব্র্যান্ডটি আবারও তাদের ঐতিহ্য—ট্রেঞ্চকোট, আউটারওয়্যার, স্কার্ফ আর ব্রিটিশ পরিচয়—কে সামনে এনে নতুনভাবে গ্রাহকের কাছে ফিরে যেতে শুরু করে।

পণ্যে এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ট্রেঞ্চকোট এখন হালকা গ্যাবার্ডিন কাপড়ে, যাতে সব মৌসুমে ব্যবহার করা যায়। দোকানজুড়ে ‘স্কার্ফ বার’ বসানো হয়েছে, যাতে স্কার্ফ গ্রাহকের চোখে বেশি ধরা পড়ে। হ্যান্ডব্যাগের দামও নতুনভাবে সমন্বয় করা হয়েছে, কারণ আগের মূল্য ছিল তুলনামূলক বেশি। জুতো ও বুটে ব্র্যান্ডিং আরও স্পষ্ট করা হচ্ছে, যাতে নতুন ক্রেতার কাছে পণ্য সহজে শনাক্তযোগ্য হয়।

সবচেয়ে বড় সুসংবাদ এসেছে চীন থেকে। ছয় প্রান্তিক ধরে ক্রমাগত পতন দেখার পর এবার সেখানে বিক্রয় ৪ শতাংশ বেড়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিকের অন্য শহরেও দোকানে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। ইউরোপ ও আমেরিকায় পর্যটকদের কেনাকাটা কিছুটা কম হলেও স্থানীয় গ্রাহকদের আগ্রহ ফিরছে। নতুন ক্রেতা যোগ হওয়ার পাশাপাশি পুরনো ক্রেতারাও ধীরে ধীরে ফিরে আসছেন।

আর্থিক চিত্রেও কিছুটা স্থিতি দেখা যাচ্ছে। অর্ধবছরের রেভিনিউ আগের তুলনায় কম হলেও ক্ষতি কমে Adjusted Operating Profit দাঁড়িয়েছে ১৯ মিলিয়ন পাউন্ডে। গ্রস মার্জিন বেড়েছে, কারণ পুরনো স্টক কমানোয় ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন কমেছে। হোলসেল বিক্রি কমিয়ে ব্র্যান্ড-ইমেজও শক্ত করা হয়েছে। নগদ অর্থ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৭০৮ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে।

তবে কোম্পানি মানছে, পুরো টার্নঅ্যারাউন্ড এখনো শুরুর দিকেই। ভবিষ্যতে বছরে ৩ বিলিয়ন পাউন্ড রেভিনিউয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারা এখন নিজের শক্ত জায়গায় ফিরে এসেছে, আর উন্নতির ধারা স্পষ্ট।

আউটারওয়্যার শক্তিশালী করার পর এখন নজর দেওয়া হচ্ছে নীটওয়্যার, ট্রাউজার, স্কার্টসহ দৈনন্দিন বিলাসী পোশাকে। ডিজাইন টিম ও বাণিজ্যিক বিভাগ একসঙ্গে কাজ করছে, যাতে নতুন পণ্য দ্রুত বাজারে আসে ও গ্রাহকের চাহিদার সঙ্গে মেলে।

বারবেরির বর্তমান গল্প মূলত ঐতিহ্যে ফিরে দাঁড়ানোর গল্প। ট্রেঞ্চকোট যেদিন তাদের পরিচয় গড়ে দিয়েছিল, সেই শিকড়েই ফিরছে ব্র্যান্ডটি। শুলম্যানের দাবি—“বারবেরির সেরা দিনগুলো এখনো সামনে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *