বার্লিন, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ — জার্মানি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতি অস্ত্র রপ্তানির আংশিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জের মুখপাত্র সেবাস্তিয়ান হিলে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২৪ নভেম্বর থেকে অস্ত্র রপ্তানির ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহার করা হবে। তিনি বলেন, “গত ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং এটি মৌলিকভাবে স্থিতিশীল হয়েছে। এই স্থিতিশীলতাই আমাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তি” ।
চলতি বছরের আগস্টে জার্মানি ঘোষণা দিয়েছিল, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে তারা এমন সব অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করবে, যা গাজায় ব্যবহার হতে পারে। সেই সময় চ্যান্সেলর মার্জ বলেছিলেন, “আমরা এমন কোনো সামরিক সরঞ্জামের অনুমোদন দেব না, যা গাজায় ব্যবহার হতে পারে” ।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর জার্মান সরকার মনে করছে, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তাই তারা আবারও ইসরায়েলের প্রতি অস্ত্র রপ্তানির পথ খুলে দিচ্ছে, যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথকভাবে অনুমোদন দেওয়া হবে ।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “আমি অন্যান্য সরকারগুলোকেও আহ্বান জানাব, জার্মানির পথ অনুসরণ করতে” ।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। সেখানে প্রতিদিনই হামলা চলছে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এমন পরিস্থিতিতে অস্ত্র রপ্তানি শুধু সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে ।
জার্মানি ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর বার্লিন ইসরায়েলকে প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের অস্ত্র রপ্তানি করেছে ।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জার্মানি আবারও স্পষ্ট করল, তারা ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি দৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাবে — এমনকি যদি তা তাদের নিজ দেশের ভেতরেও বিতর্কের জন্ম দেয়।