অবৈধ ও ক্লোন ফোনে কঠোর ব্যবস্থা: কোনও ছাড় নয়—প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী

দেশে অবৈধভাবে আনা, চোরাচালানকৃত ও ক্লোন করা মোবাইল ফোন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন—এ ক্ষেত্রে কাউকে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।

বুধবার মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, অবৈধ ফোনের সাথে নানাধরনের অপরাধ জড়িয়ে থাকে। যেমন—সিমের ভুল রেজিস্ট্রেশন বা eKYC জালিয়াতি, জুয়ার লিংক ও এমএলএম প্রতারণার বাল্ক এসএমএস, ভুল এমএফএস রেজিস্ট্রেশন, অনলাইন জুয়া ও স্ক্যামিং, প্যাটেন্ট ও রয়্যাল্টি ফাঁকি, শুল্ক ফাঁকি, সীমান্ত চোরাচালান এবং লাগেজ পার্টির মাধ্যমে আনবক্সড ফোন আমদানি। এসব কারণে নাগরিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিডা, মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানি, ব্যাংকিং খাত, বিএফআইইউ ও এনবিআর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ফোন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করে আসছে। তাই এখন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে এক বছর আগেই লাখ লাখ ফোন দেশে ঢুকিয়ে ‘ডাম্পিং’ করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “কোনো দোকানি বা ব্যবসায়ীর ব্যবসা নষ্ট করা হচ্ছে না। তারা বৈধভাবে আমদানি করা বা দেশীয় উৎপাদিত ফোন বিক্রি করলেই সমস্যা নেই।”

তিনি জানান, একটি IMEI নম্বরের বিপরীতে লাখো ফোন বানিয়ে দেশে আনার ঘটনাই এখন বড় সমস্যা। NEIR চালু হলে এ ধরনের জালিয়াতি আর সম্ভব হবে না। এজন্য একটি চক্র NEIR বন্ধ করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, লাগেজ পার্টি, বেআইনি HS কোড ব্যবহার, সীমান্ত চোরাচালানসহ সব ধরনের ডিজিটাল অপরাধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে বিটিআরসির সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়ে এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই যৌথ বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনকারীদের দাম কমানোর বিষয়ে বিটিআরসির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি জানান, গ্রাহকের স্বার্থে বৈধ ফোনের দাম কমাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদেশ থেকে বৈধ পথে আনা ফোনের রেজিস্ট্রেশন সহজ করতে বিটিআরসি কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ১৬ ডিসেম্বরের আগে যে সব ফোন অ্যাকটিভ থাকবে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

রেজিস্ট্রেশন, ডি-রেজিস্ট্রেশন ও রি-রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি সাধারণ মানুষের জন্য কীভাবে সহজ করা যায়—সে বিষয়ে পাওয়া যৌক্তিক পরামর্শগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও বিশেষ সহকারী জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *