ওয়াশিংটনের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ গত বুধবার এমন এক বিধান বাতিলে সর্বসম্মত ভোট দিয়েছে, যা গোপনে সিনেটের রিপাবলিকান নেতাদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের পথ খুলে দিয়েছিল। এই ভোট শুধু একটি ভুল সংশোধনই নয়—এটি রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদকে নতুন করে প্রকাশ করেছে। একপাশে সিনেটের নেতৃত্ব, অপর পাশে প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানদের তীব্র আপত্তি।
সরকারি বাজেট বিলের আড়ালে গেল সপ্তাহে যুক্ত হয় একটি অতিরিক্ত বিধান। উদ্দেশ্য—সিনেটের আটজন রিপাবলিকান সদস্যকে সুযোগ দেওয়া, যাতে তাঁরা ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার তদন্তে তাঁদের ফোন রেকর্ড জব্দ করার কারণে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন এবং প্রতিটি মামলায় কমপক্ষে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারেন।
বিধানটি যুক্ত হয়েছিল নীরবে—অনেক আইনপ্রণেতা দাবি করেছেন, তাঁরা এর অস্তিত্বই জানতেন না। এতে বলা হয়, তদন্তের প্রয়োজনে যদি কোনো সিনেট সদস্যের ফোন রেকর্ড গোপনে জব্দ করা হয়, তাহলে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে ‘ক্ষতিপূরণ’ চাইতে পারবেন। বিধানটি একমাত্র সিনেট সদস্যদের জন্য এবং তা ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পেছন দিকে কার্যকর করা হয়।
এই বিধান বাতিলের প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে অভূতপূর্বভাবে—৪১৭–০ ভোটে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সদস্যই এতে একমত। হাউস স্পিকার মাইক জনসন জানান, তিনি এ বিধান জানতে পেরে “হতবাক ও ক্ষুব্ধ” হয়েছিলেন। তাঁর মন্তব্য—“করদাতাদের অর্থে সিনেট সদস্যদের জন্য এমন অযৌক্তিক প্রণোদনা মেনে নেওয়া যায় না।”
সিনেটর শেল্ডন হোয়াইটহাউস বলেন, “রিপাবলিকানরা রাতারাতি নিজেদের জন্য ৫ লাখ ডলারের চেক কাটার ব্যবস্থা করেছেন—এ ছাড়া এটিকে অন্য কিছু বলা যায় না।”
ঘটনাটি রিপাবলিকান দলের বিভাজন আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। সিনেটর জন থুন, যিনি বিধানটি যুক্ত করতে সহায়তা করেছিলেন, বলেন, “এটি স্বাধীন সহ–সমান শাখার অধিকার রক্ষার বিষয়।”
কিন্তু যেসব রিপাবলিকান সিনেটরের ফোন রেকর্ড জব্দ করা হয়েছিল, তাঁদের অনেকে বলছেন—তাঁরা কোনো ক্ষতিপূরণ চান না। সিনেটর জশ হাউলি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “জবাবদিহি হবে তদন্তে, করদাতাদের অর্থে নয়।”
অন্যদিকে সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম ঘোষণা দিয়েছেন তিনি “কোটি ডলারের মামলা” করবেন। তাঁর বক্তব্য, তদন্তটি “ওয়াটারগেটের চেয়েও খারাপ।”
হাউসে পাশ হলেও সিনেটে বিলটির ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। সিনেটর থুন বলেননি তিনি বিলটি ভোটে তুলবেন কিনা। তবে সিনেট রিপাবলিকানদের একাংশ বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এই বিতর্ক শুধু একটি বিধান বাতিলের লড়াই নয়। এটি তুলে ধরছে—জানুয়ারি ৬–এর তদন্ত এখনও মার্কিন রাজনীতির গভীরতম বিভাজনের উৎস। দলে দলে ভিন্ন সুর, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বচ্ছতা আর নেতৃত্বের দায়—সবকিছু মিলিয়ে রিপাবলিকানদের সামনে নতুন এক রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত রেখেছে এই ঘটনা।