বিজয় মজুমদার
বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই দশকের পথচলায় অনেক উত্থান–পতনের গল্প আছে। সেই গল্পের একটি বড় অধ্যায় জুড়ে আছেন মুশফিকুর রহীম। ২০০৫ সালে লর্ডসে অভিষেক হওয়া ১৬ বছরের এক কিশোর—যে এখন দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০তম টেস্ট খেলার গৌরব অর্জন করেছেন। শুধু খেলাই নয়, শততম টেস্ট সেঞ্চুরি করে তিনি দিনটিকে রাঙিয়ে তুলেছেন আরও উজ্জ্বল করে।
প্রায় ২০ বছর আগে ইংল্যান্ড সফরে সুযোগ পেয়েছিলেন সেই কিশোর মুশফিক। সফরের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেই তিনি নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন—এক ইনিংসে ৬৩ ও আরেক ইনিংসে ১১৫ রান করে নির্বাচকদের কাছে প্রমাণ করেছিলেন যে তিনি টেস্টের মতো কঠিন ক্রিকেটেও প্রস্তুত।
২৬ মে ২০০৫—লর্ডসের সেই অভিষেক আজো রেকর্ড হয়ে আছে। লর্ডসে সবচেয়ে কম বয়সে টেস্ট অভিষেকের মালিক তিনি।
এখন, দুই দশক পর, মুশফিক আর কিশোর নন। কিন্তু তাঁর ব্যাট এখনো একই ধারায় কথা বলে। শততম টেস্টেও তা আবার প্রমাণ হলো। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে নামতেই দেখলেন দল প্রথম তিন উইকেট হারিয়ে চাপে। কিন্তু মমিনুল হকের সঙ্গে ১০৭ রানের জুটি এবং লিটন দাসের সঙ্গে ১০৮ রানের আরেক জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০৬ রান করে আউট হন মুশফিক।
এই সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে তিনি যুক্ত হলেন ক্রিকেট ইতিহাসের এক বিশেষ তালিকায়—যাঁরা শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন। এই তালিকায় আছেন ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কিংবদন্তিরা—ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রে, অ্যালেক স্টুয়ার্ট, জো রুট; অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নার; পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াদাদ ও ইনজামামুল হক; ওয়েস্ট ইন্ডিজের গর্ডন গ্রিনিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়াম স্মিথ ও হাশিম আমলা।
এর মধ্যে রিকি পন্টিং শততম টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন, আর জো রুট ও ডেভিড ওয়ার্নার করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি।
মুশফিক এখনো দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেতে পারেন। সুযোগ পেলে সামনে থাকবে আরও এক বিরল রেকর্ড—শততম টেস্টে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি। যা এখন পর্যন্ত করেছেন শুধু রিকি পন্টিং।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে মুশফিকুর রহীমের অবদান নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে তিনি দেখালেন—দীর্ঘ পথচলায় এখনো তাঁর ব্যাট বলার মতো গল্প রেখেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই দিন তাই স্মরণীয় হয়ে থাকবে অনন্য কীর্তির সাক্ষী হয়ে।