দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি তবুও নিয়মিত বেতন উত্তোলনের অভিযোগ

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, রিফাইতপুর ইউনিয়নের ভাদালিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আরিফা সিদ্দিকা প্রায় তিন মাস ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন না। কিন্তু বিদ্যালয়ের বেতন শিটে পুরো মাসের উপস্থিতি দেখিয়ে সই করে নিয়মিত তার বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় তার ধারাবাহিক অনুপস্থিতি স্পষ্ট থাকলেও বেতন নির্ধারণি তালিকায় বিষয়টি প্রতিফলিত হয়নি। এমনকি সময়মতো স্কুলে না আসা, ছাত্র-ছাত্রীদের ঠিকমতো পাঠদান না করাসহ তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান জানান, তিনি আমাকে কোনো লিখিত আবেদন দেননি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্কুলে আসছেন না। মনে হচ্ছে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে বেতনের রির্টানে সই করিয়ে টাকা তুলছেন।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক, যিনি পরিচয় গোপন রাখতে চান, বলেন, আরিফা সিদ্দিকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির এক নেতার আত্মীয় হওয়ায় মনমতো ডিউটি করেন। কেউ কিছু বলতে গেলেই ভয় দেখান। বিষয়টির দ্রুত সমাধান দরকার।

প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, বিদ্যালয়ে নথি অনুসারে ছয়জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও হাজিরা খাতায় পাঁচজনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। অর্থাৎ আরিফা সিদ্দিকার অনুপস্থিতির বিষয়টি খাতাতেই স্পষ্ট।

অভিযুক্ত শিক্ষিকার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুশতাক আহমদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। জনবল কম থাকায় বড় উপজেলার সব বিদ্যালয়ের সবকিছু নিয়মিতভাবে দেখা সম্ভব হয় না। আপনারদের মাধ্যমে জানলাম। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি তদন্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এলাকাবাসীসহ শিক্ষক সমাজ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *