২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ইরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শন চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘের পারমাণবিক নিরীক্ষক সংস্থা (IAEA) ও তেহরানের মধ্যকার এই সমঝোতাটি ছিল বহুল আলোচিত—এর মাধ্যমেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম আংশিকভাবে পুনরায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরানের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। সেই ঘটনার পর থেকেই তেহরান IAEA–র সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করে দেয়। কয়েক মাস পরে কায়রোতে আলোচনা হয় এবং সেপ্টেম্বরে একটি নতুন সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়—যেখানে আংশিক পরিদর্শন পুনরায় শুরুর বিষয়ে ইরান সম্মত হয়।
কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং জোরালো কূটনৈতিক চাপের পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান এখন সেই সমঝোতা থেকেও একধাপ পেছনে সরে এসেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, IAEA–র সর্বশেষ প্রস্তাব তাদের ওপর “চাপ সৃষ্টির অপচেষ্টা।” তাঁর দাবি, হামলার বাইরে থাকা কিছু স্থাপনায় সীমিত মাত্রায় সহযোগিতা করতে ইরান প্রস্তুত; তবে পূর্ণাঙ্গ ও অবারিত পরিদর্শনের বিপক্ষে তারা সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।
IAEA মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি জানিয়েছেন, ইরানের এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের পারমাণবিক উপকরণগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি আবারও তেহরানকে পূর্ণ সহযোগিতায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের সিদ্ধান্তকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেছে। নতুন করে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছে তারা।
ইরানের দাবি—তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, পরিদর্শনে বাধা ও আন্তর্জাতিক পরিদর্শন চুক্তি থেকে সরে আসা—এসব পদক্ষেপ বিশ্বমহলে নতুন সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে, তেহরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে আরো এগোচ্ছে?
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা—ইরান যেন আবারও আলোচনার পথে ফিরে আসে এবং বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে গঠনমূলক ভূমিকা রাখে। কিন্তু তেহরানের বর্তমান কঠোর অবস্থান সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।