ঢাকার বিজয় সরণিতে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের মাল্টিপারপাস হলে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) “Mobile Phone Optimized Website” উদ্বোধন করেছে। দেশের মানুষের হাতে দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্যভাবে আবহাওয়ার তথ্য পৌঁছে দিতে নতুন এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আশরাফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ ইচিগুচি তোমোহিদে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উইং-৩ এর উইং চিফ বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মুহম্মদ সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিএমডির পরিচালক মোঃ মমিনুল ইসলাম।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সিপিপি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শিক্ষা বিভাগ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন, সিটি কর্পোরেশন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়াও পরিকল্পনা কমিশন, বাস্তবায়ন–পরিবীক্ষণ–মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাইকার কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং নরওয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরাও সেখানে ছিলেন।
জাইকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বিএমডি বাস্তবায়িত TAPP প্রকল্প “Strengthening the Capacity of Weather and Climate Services”–এর আওতায় এই মোবাইল উপযোগী ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় দ্রুত ও সঠিক আবহাওয়া তথ্য এখন জরুরি। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বজ্রঝড়, তাপপ্রবাহ, ভারী বর্ষণ—এ ধরনের দুর্যোগ মানুষের জীবন ও জীবিকায় নিয়মিত প্রভাব ফেলে। দেশে ৯০% এর বেশি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে; তাই মোবাইলবান্ধব এই ওয়েবসাইট আগাম সতর্কবার্তা জনগণের হাতে আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে বলে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন।
নতুন ওয়েবসাইটের সুবিধার মধ্যে রয়েছে—কম ব্যান্ডউইথে দ্রুত লোডিং, সব ধরনের মোবাইল স্ক্রিনে উপযোগী রেসপন্সিভ ডিজাইন, পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা, রাডার–স্যাটেলাইট তথ্যের উন্নত ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকর সমন্বয়।
কৃষক, জেলে, নগরবাসী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপক, নীতিনির্ধারকসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এখন সহজেই প্রয়োজনীয় আবহাওয়ার তথ্য পাবে। উদ্যোগটি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)–এর “Early Warning for All” কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বক্তারা জাইকার দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, এই সহায়তা বিএমডির পূর্বাভাস সক্ষমতা আরও উন্নত করেছে। ভবিষ্যতে পূর্বাভাসের নির্ভুলতা বাড়ানো, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএমডির কর্মকর্তারা।