নির্বাচনে অংশ নিতে মরিয়া জাপা: সব পক্ষের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষা

 

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে ‘গ্রিন সিগন্যাল’-এর অপেক্ষায় আছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়নি, নির্বাচন কমিশনও নিবন্ধন বাতিল করেনি—তাই জাপা এখনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। গত ১৪ মাস ধরে রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা থাকলেও ৩০০ আসনেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে তারা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে প্রথম দিকে একটি বৈঠকে অংশ নিলেও পরে ঐকমত্য কমিশন বা সরকারের আর কোনো বৈঠকে ডাক পায়নি জাপা। তবে দলটির নেতারা আশা করছেন, তফসিল ঘোষণার পর অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা আছে, তা দূর হবে।

এদিকে জাপাকে নির্বাচনে সুযোগ না দেওয়ার দাবিতে মাঠে নামছে গণঅধিকার পরিষদ, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাদের অভিযোগ, জাপা নির্বাচনে অংশ নিলে আবারও আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারে। তবে জাপার দাবি, তাদের বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে সেটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না।

জাপা এখন জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে যেতে চাইছে। বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের আগ্রহও প্রকাশ করেছে দলটি। জাপার দুই অংশের নেতারা বলছেন, সুযোগ পেলে তারা জোরেশোরে ভোটের মাঠে নামবে।

জাপার একাংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “জাপা নির্বাচনমুখী দল। পরিবেশ তৈরি হলে আমরা অংশ নিতে প্রস্তুত। জোটে গেলেও জাপার আসন বাড়বে, পাশাপাশি জোটসঙ্গীদেরও উপকার হবে।”

অন্য অংশের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “জাতীয় পার্টি সব সময় নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। আগামী নির্বাচনেও অংশ নিতে আগ্রহী। কোন কৌশলে নির্বাচনে যাবো, তা পরে জানানো হবে।” তিনি আশা করেন, অন্তর্বর্তী সরকার সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

জাপা এখন তাকিয়ে আছে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সবুজ সংকেতের দিকে। সুযোগ মিললেই, তারা বলছে—নির্বাচনের মাঠে শক্ত অবস্থান নিয়ে ফিরে আসবে জাপা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *