২০ নভেম্বর ২০২৫, জেনেভা – বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)র তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সনদে অনুসমর্থন দেওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রশংসা কুড়ালো। এর মধ্যে রয়েছে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সনদ, ১৯৮১ (নং ১৫৫), নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রচারমূলক কাঠামো সনদ, ২০০৬ (নং ১৮৭) এবং সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ সনদ, ২০১৯ (নং ১৯০)।
আইএলওর জেনেভা সদর দফতরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন তিনটি সনদের অনুসমর্থনপত্র জমা দেন। এই পদক্ষেপে বাংলাদেশ এখন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে সব মৌলিক সনদে অনুসমর্থন দেওয়া দেশ। এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে সনদ নং ১৯০ অনুসমর্থন করেছে।
এমন পদক্ষেপের ঠিক কয়েক দিন আগে, ১৭ নভেম্বর ২০২৫, বাংলাদেশ সরকার জারি করেছে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫, যা শ্রম আইনকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। এতে কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা, হয়রানি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত হয়েছে।
আইএলও বাংলাদেশ অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনিয়ন বলেন,
“বাংলাদেশ যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সনদে অনুসমর্থন দিল, তা লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করবে। সহিংসতা ও হয়রানি কমলে নারীদের কর্মজীবনে অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে। এ পদক্ষেপ বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আরও দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।”
আইএলও সনদ ১৫৫ ও ১৮৭ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিরোধমূলক ও পরিকল্পিত কাঠামো তৈরি করে। অন্যদিকে সনদ ১৯০ কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি—বিশেষ করে লিঙ্গভিত্তিক—প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়। এই সনদ দেশের সব ধরনের শ্রমিককে সুরক্ষা দেয়, আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কাজের ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শ্রম মান রক্ষা এবং কর্মীদের মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করার প্রতি দেশের দৃঢ় অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।