৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প—ঢাকা-গাজীপুরসহ বিস্তৃত এলাকায় কাঁপুনি

 

নরসিংদীর পাশেই অনুভূত হয় এক অগভীর ভূমিকম্প। সকালে হঠাৎই দুলে ওঠে, জানালা-কপাট কাঁপে, আর মানুষ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে আতঙ্কে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানায়, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৭ এবং উৎস ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর উৎস হওয়ায় কম্পন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের জেলাগুলোতে।

USGS–এর তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের কেন্দ্র ছিল নরসিংদী জেলা শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ–পশ্চিমে, অবস্থান ২৩.৮৯° উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০.৫৭° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ঢাকায়, গাজীপুরে, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও অনেক মানুষ হালকা কাঁপুনি অনুভব করেছেন।

মিরপুরের বাসিন্দা স্বপন মিয়া বলেন, “বিছানা দুলছে মনে হলো। প্রথমে ভাবলাম শরীর খারাপ, পরে দেখি জানালা কাঁপছে। সঙ্গে সঙ্গে নিচে নেমে যাই।” এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরও বহু এলাকার বাসিন্দা। ভূমিকম্পের পর কয়েক মিনিট স্থানীয় মোবাইল নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ তিনটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থান করছে। নরসিংদী-ঢাকা উপকণ্ঠ মধুপুর ফল্টের প্রভাবাধীন এলাকা, যেখানে মাঝেমধ্যে মাঝারি মাত্রার কম্পন দেখা যায়। তারা বলছেন, মাঝারি মাত্রার হলেও অগভীর উৎসের ভূমিকম্প ভবিষ্যতের ঝুঁকির সংকেত হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

ভূমিকম্পের সময় অনেকেই ভয়ে সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নেমে এসেছেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা “ডাক–কভার–হোল্ড” পদ্ধতি শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন—দুঃখজনকভাবে দেশে এখনো এ বিষয়ে সচেতনতা কম।

কয়েক সেকেন্ডের কাঁপুনি বড় ক্ষতি না করলেও দেখিয়ে দিয়েছে দেশের মাঝামাঝি এলাকাও ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভবন নির্মাণে কঠোর নীতি, জনসচেতনতা এবং দ্রুত প্রস্তুতি—এখন সময় এ দিকেই নজর দেওয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *