অস্ট্রেলিয়ার পার্থে শুরু হয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ—অ্যাশেজ। আর এই সিরিজের প্রথম টেস্টেই নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। ২১শে নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন টিভি আম্পায়ার হিসেবে—যা এই প্রথম কোনো বাংলাদেশী আম্পায়ারের অর্জন।
খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সৈকত। কিন্তু পরপর চোটে তাঁর ক্রিকেট–স্বপ্ন ধাক্কা খায়। জাতীয় দলে সুযোগ হারালেও ক্রিকেট থেকে সরে যাননি তিনি। মাঠে সাদা পোশাকে আম্পায়ার হিসেবে যে পথচলা শুরু করেছিলেন, তা আজ তাঁকে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত মঞ্চে এনে দাঁড় করিয়েছে।
সততা ও নিখুঁত সিদ্ধান্তের জন্য শুরু থেকেই আইসিসির নজরে ছিলেন সৈকত। এক ছদ্মবেশী জুয়াড়ির পরীক্ষা থেকে ডিটিংশন মার্ক নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁর প্রতি আরও আস্থা বাড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার। এরপর ধারাবাহিক পারফরমেন্স তাঁকে নিয়ে যায় আইসিসির প্যানেল আম্পায়ার হওয়ার পথে।
এই পথ আরও মসৃণ হয় এক অস্ট্রেলীয় আম্পায়ার ম্যানেজারের সহায়তায়, যিনি সৈকতের কাজ দেখে তাঁকে আইসিসির প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেন। পরে আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার ওয়াসিম খান, টনি হিল ও সঞ্জয় মাঞ্জেরেকারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এলিট প্যানেলে জায়গা করে নেন তিনি।
প্রতিটি ম্যাচে নিজের যোগ্যতা দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তাঁকে বেছে নিয়ে আইসিসি ভুল করেনি।
পার্থ টেস্টে তিনি টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করছেন। আর অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট, যা আগামী ৪–৮ ডিসেম্বর ব্রিজবেনে হবে, সেখানে তিনি থাকছেন অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি এক নতুন অধ্যায়—যেখানে সৈকতের নাম এখন গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হবে।