দেশের কৃষিকে আরও শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকার ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত, তাই কৃষির উন্নয়ন মানেই অর্থনীতির উন্নয়ন।
শনিবার কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবির বাজার হাই স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে ঘোষিত সরকারের ৩১ দফা পরিকল্পনায় কৃষিখাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় কৃষকদের জন্য স্বতন্ত্র পরিচয় ও সুবিধা নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের পরপরই এ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রথম ধাপে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকের মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লার অরণ্যপুর ব্লক থেকেও এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড চালুর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে এবং কৃষক সরাসরি তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে তারা সার, বীজ, বালাইনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।
এছাড়া সরকার কৃষিযন্ত্রে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে, যা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সহজে পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে কৃষি ঋণ ও কৃষি বিমার সুবিধাও এই কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অংশ হিসেবে সোলারচালিত সেচ পাম্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকরা এ সুবিধা পাবেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড ও ফলের চারা তুলে দেন। পরে তিনি পাশের কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন দপ্তরের স্টল ঘুরে দেখেন।
জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক বাস্তবায়ন হলে কৃষক কার্ড কৃষকদের জন্য একটি কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ব্যবস্থাপনার ওপর।