সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে সরকার প্রথম দিন থেকেই নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার সবার জন্য—কে ভোট দিয়েছে আর কে দেয়নি, তা বিবেচনায় না নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ‘মহানগর পরিবার দিবস’ উদ্বোধন, গুণীজন সম্মাননা এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের মেধা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্ন মত ও আদর্শ থাকবেই। তবে সেই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য গড়ে তোলাই সরকারের নীতি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের সব নাগরিক আইনের চোখে সমান। “জাতিগতভাবে আমরা বাঙালি, আর রাষ্ট্র হিসেবে আমরা সবাই বাংলাদেশি—এই পরিচয়ই আমাদের শক্তি,” বলেন তিনি।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও বৈষম্যের প্রসঙ্গে মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। “আপনাদের যেখানে কষ্ট, আমাদেরও সেখানেই কষ্ট,”—এভাবে তিনি সংখ্যালঘুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের ঘোষিত নীতির আলোকে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।
একই অনুষ্ঠানে ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে সংরক্ষণের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতায় এনে মন্দিরটির ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষা ও উন্নয়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পাল। উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোঃ হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ এর সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শ্রীমতি মঞ্জু ধর ও বাবুল দাসকে ‘গুণীজন সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের হাতে মেধা বৃত্তির চেক ও সনদ তুলে দেন মন্ত্রী।
বক্তারা বলেন, পরিবারভিত্তিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।