প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের প্রতিবাদে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে এই সমাবেশ হয়। দেশজুড়ে নানা সংগঠনের শিল্পীরা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে সমাবেশের সূচনা করেন।
আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক এবং উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম। স্বাগত বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সঙ্গীত ও শরীরচর্চা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশেষ মহলের চাপে সরকার সঙ্গীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে এবং তার পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। তারা বলেন, দেশের প্রায় সব স্কুলেই ধর্মীয় শিক্ষক আগে থেকেই আছেন, তাই নতুন করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি অসৎ উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। বক্তাদের মতে, এ ধরনের দাবির পেছনে একটি মেধাহীন ও সৃজনশীলতা-বর্জিত প্রজন্ম গড়ে তোলার অপচেষ্টা রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, সঙ্গীত শিশুর ভাষা, আবেগ ও সৃজনশীলতা গঠনে ভূমিকা রাখে। অপরদিকে শরীরচর্চা সুস্থ বিকাশ, দলগত চেতনা ও দায়িত্ববোধ শেখায়। একটি মানবিক ও সৃজনশীল জাতি গঠনের জন্য এসব শিক্ষা অপরিহার্য।
তারা ২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের বাতিলাদেশ প্রত্যাহার করে আগের ২৮ আগস্টের মূল প্রজ্ঞাপন পুনর্বহালের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে সঙ্গীত, চারুকলা ও শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনার পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। উদীচীর শিল্পীরা পরিবেশন করেন “ওরা আমাদের গান গাইতে দেয় না” এবং “অধিকার কে কাকে দেয়” গান দুটি। সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, শিল্পকলা বিদ্যালয় ঐক্যজোটসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা একক ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যাক্ষর, আবৃত্তি করেন উদীচীর বেশ কয়েকজন শিল্পী। শেষে বাউল গান পরিবেশন করেন জামিল খ্যাপা ও জাহিদ বাউল।
এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত রয়েছে ২৩টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষক, ছাত্র ও শিশু সংগঠন।