চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার শুরু করল ভুটান

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে বহুদিনের দেখা স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করতে আজ এক বড় পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ভুটানের পণ্য তাদের নিজ দেশে যাওয়ার পরীক্ষামূলক (ট্রায়াল) যাত্রা শুরু হয়েছে।

রোববার (২৩শে নভেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৫ টন পণ্য নিয়ে একটি ট্রাক ভুটানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্যিক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

এই পরীক্ষামূলক যাত্রার রুটটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী ট্রাকটি রওনা হয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছাবে। এরপর সেখান থেকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সরাসরি ভুটানে প্রবেশ করবে। অর্থাৎ, ভুটানের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহৃত হচ্ছে।

আজকের এই ১৫ টন পণ্যের যাত্রাটি মূলত একটি পরীক্ষা। এই রুটে পণ্য পরিবহনে রাস্তাঘাটের অবস্থা, কাস্টমসের কাগজপত্র, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা—সেটাই যাচাই করা হচ্ছে। উভয় দেশের সরকার আগেই এই রুটের জন্য টনপ্রতি ফি, স্ক্যানিং চার্জ এবং অ্যাডমিন চার্জ নির্ধারণ করে রেখেছে।

ভুটানের চারদিকে সমুদ্র নেই। এতদিন তারা মূলত ভারতের কলকাতা বন্দর ব্যবহার করত, যা তাদের জন্য বেশ দূর এবং খরচসাপেক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করলে ভুটানের সময় ও পরিবহন খরচ—দুটোই অনেকটা কমে যাবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের পণ্যের প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা বাড়বে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য এটি আয়ের এক নতুন উৎস। এতদিন বাংলাদেশ কেবল পণ্য আমদানি বা রপ্তানি করত। এখন অন্য দেশকে নিজের রাস্তা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েও আয় করবে। একে বলা হচ্ছে “পথ দিয়ে আয়”। বিশ্বের অনেক দেশ, যেমন সিঙ্গাপুর, শুধু ট্রানজিট সুবিধা দিয়েই তাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশও সেই পথে হাঁটা শুরু করল।

এই পরীক্ষামূলক যাত্রা সফল হলে, ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে শত শত ট্রাক এই রুট ব্যবহার করবে। এতে বাংলাদেশের স্থলবন্দরগুলোতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ফি বাবদ বছরে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একটি বাণিজ্যিক রুট চালু হওয়া নয়, এটি ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী বার্তা। ভবিষ্যতে ভারত ও নেপালও একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হতে পারে। আজকের এই ছোট পদক্ষেপটি বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্রে (রিজিওনাল ট্রানজিট হাব) পরিণত করার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *