মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজের ভূমিকা কমিয়ে আনছে। বহুপাক্ষিক সংস্থা, জলবায়ু চুক্তি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে এই সরে দাঁড়ানোকে বিশ্লেষকরা দেখছেন নতুন বিশ্ব রাজনীতির ইঙ্গিত হিসেবে। ব্রিটিশ সাময়িকী The Economist বলছে—এই পরিস্থিতি চীনের জন্য একটি “স্বর্ণালী সুযোগ” তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন এখন বিশ্বকে বোঝাতে চাইছে—তারা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্র যেসব ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে, চীন ঠিক সেই জায়গাগুলোতেই নিজেকে “নির্ভরযোগ্য অংশীদার” হিসেবে দাঁড় করাতে চাইছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধে জড়িত বা মার্কিন নীতিতে অনিশ্চয়তা দেখছে—এমন দেশগুলো চীনের এই অবস্থানকে মনোযোগ দিয়ে দেখছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র যখন WTO, প্যারিস চুক্তি বা জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে, তখন বিশ্ব নেতৃত্বে একটি শূন্যতার অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে বিশ্ব বাণিজ্য—প্রত্যেক ক্ষেত্রেই মার্কিন অনুপস্থিতি চীনকে সামনে আসার সুযোগ দিচ্ছে। নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রযুক্তি ও সবুজ অর্থনীতিতে চীন দ্রুত নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ বিশ্বের বহু দেশে অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে। মার্কিন প্রভাব যখন কমছে, তখন চীন এই প্রকল্পগুলো ব্যবহার করছে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর জন্য। উন্নয়নশীল দেশের কাছে চীন এখন ক্রমশ বিকল্প নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে।
The Economist বলছে, আগামী বছরগুলোতে চীন আরও স্পষ্টভাবে জানাবে—তারা স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য সম্পর্কের পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে ক্লান্ত অনেক দেশের কাছে এই বার্তা আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এখন যে পরিবর্তনগুলো দেখা যাচ্ছে—তার কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতি এবং চীনের ধীর, কিন্তু লক্ষ্যভিত্তিক অগ্রগতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২১ শতকের রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য বদলে যেতে পারে, যেখানে চীনের ভূমিকা হবে আরও প্রভাবশালী।