২৯শে নভেম্বর শনিবার, ঢাকার বেইলি রোডের সকালটা একটু অন্যরকম। শান্ত, গোছানো ফরেন সার্ভিস একাডেমির আঙিনায় সকাল ১০টার দিকেই বাড়তে শুরু করেছে মানুষের ভিড়। বিদেশি কূটনীতিক, তাদের পরিবার, স্থানীয় অতিথি—সবার পদচারণায় শুরু হয়েছে “International Charity Bazar”-এর উৎসব। আয়োজন করেছে Foreign Office Spouses Association (FOSA)। আর সেই রঙিন আয়োজনের একটি উজ্জ্বল অংশ হয়ে উপস্থিত হয়েছে অরুণিমা—দেশীয় হাতের কাজ, রঙ, নকশা আর সংস্কৃতিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া একটি পরিচিত নাম।
মেলাটি মূলত দাতব্য কাজের জন্য। বছরের শেষে এ ধরনের মেলার মাধ্যমে সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের জন্য তহবিল সংগ্রহ করে থাকে। তাই প্রতিটি স্টলের পেছনে আছে কোনো না কোনো মানবিক উদ্যোগের গল্প। কোথাও বিশেষ শিশুদের তৈরি হস্তশিল্প, কোথাও পুনর্বাসন প্রকল্পের পণ্য, আর কোথাও গ্রামীণ নারীদের বানানো খাদ্যপণ্য ও পোশাক।
অরুণিমার স্টলেও সেই গল্পের ধারা স্পষ্ট। অরুণিমা সাধারণত বাংলাদেশের কারুশিল্পীদের সাথে কাজ করে—বিশেষ করে নারী কারিগরদের। তাদের হাতে তৈরি গয়না, পোশাক, হোম ডেকর আইটেম এখানে এসেছে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে। মেলায় আসা বিদেশিদের কাছে এগুলো নতুনত্বের, আর স্থানীয়দের কাছে গর্বের।
সকাল থেকেই অরুণিমার স্টলে ভিড়। কেউ শাড়ির রঙিন নকশা দেখে মুগ্ধ, কেউ হাতে তৈরি নকশী কাথা দেখে থমকে দাঁড়ায়। অনেকে আবার জানতে চায়—এই কাজগুলো কোথায় হয়, কারা বানায়, কত সময় লাগে।
অরুণিমার উদ্যোক্তা তোরিফা নাজমিনা জানালেন, তাদের লক্ষ্য শুধু পণ্য বিক্রি নয়; বরং বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্পকে আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সামনে তুলে ধরা।
একদিনের এই মেলাটি সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এমন আয়োজন খুব বেশি দেখা যায় না। বিভিন্ন দেশের খাবারের স্টল, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, শিল্পকর্ম—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীরা যেন ছোট্ট এক বৈশ্বিক সংস্কৃতি-বৈচিত্র্যের ভ্রমণের স্বাদ পেয়েছেন।
Foreign Office Spouses Association দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ডে যুক্ত। তাদের তহবিলে প্রতি বছরের শেষে যুক্ত হয় এ ধরনের মেলার আয়। পরে সেই অর্থ চলে যায় শিক্ষা সহযোগিতা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ছোট প্রকল্প, এবং দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসনের মতো কাজে।
অরুণিমার অংশগ্রহণ তাই শুধু ব্যবসায়িক নয়; বরং একটি বৃহত্তর সামাজিক উদ্যোগের অংশ। কারুশিল্পের প্রতিটি পণ্যের বিক্রি গ্রামীণ কারিগরদের জীবনে ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে।
“International Charity Bazar” শুধু একটি মেলা নয়; এটি ছিলো মানবিকতা, সংস্কৃতির বিনিময় এবং অর্থবহ সংযোগ তৈরির একটি দিন। আর সেই গল্পে অরুণিমার উপস্থিতি আরও একটি বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে—বাংলাদেশি পণ্যের সৌন্দর্য ও সৃজনশীলতা।